পেট্রোল-ডিজেলের শুল্কে বড় বদল,কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে পকেটে কতটা প্রভাব পড়বে?

আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি রফতানির শুল্কে বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পেট্রোলের রফতানিতে উইন্ডফল ট্যাক্স বা আকস্মিক মুনাফার কর প্রতি লিটারে ২.৫০ টাকা করা হয়েছে। এর আগে এই করের পরিমাণ ছিল মাত্র ০.৫০ টাকা প্রতি লিটার। অর্থাৎ, এক ধাক্কায় পেট্রোলের রফতানি শুল্ক বৃদ্ধি পেল পাঁচ গুণ।

তবে এর উল্টো ছবি দেখা গেছে ডিজেলের ক্ষেত্রে। ডিজেল রফতানির উপর শুল্ক প্রতি লিটারে ১৬ টাকা থেকে কমিয়ে একলাফে ৮.৫০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, ডিজেলের রফতানিতে লিটারপিছু ৭.৫০ টাকা শুল্ক কমানো হয়েছে। নতুন এই শুল্কের হার আজ, ১৬ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের দাম ক্রমাগত ওঠানামা করছে। সেই বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই জ্বালানি রফতানির ওপর করের হার পরিবর্তন করে চলেছে কেন্দ্র। সাধারণত প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই ট্যাক্স পর্যালোচনা করা হয় এবং পরিস্থিতি বুঝে করের হার সংশোধন করা হয়। তবে ঠিক কী কারণে হুট করে পেট্রোলের শুল্ক বাড়ানো হলো এবং ডিজেলের ক্ষেত্রে বড় ছাড় দেওয়া হলো, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো হয়নি।

পকেটে কতটা প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের?
জ্বালানি রফতানির ওপর শুল্ক বাড়লেও দেশের সাধারণ মানুষের চিন্তা করার কোনো কারণ নেই। রফতানি শুল্কের এই পরিবর্তনের ফলে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দামে কোনো প্রভাব পড়বে না। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে বাড়তি চাপের কোনো আশঙ্কা নেই বলেই জানা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের জুলাই মাসে দেশে প্রথমবার জ্বালানি রফতানির ওপর উইন্ডফল ট্যাক্স চালু করেছিল কেন্দ্র। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া থাকায় পরিশোধন সংস্থাগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় সেই কর তুলে নেওয়া হলেও, চলতি বছরের মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের চড়ে যাওয়ায় সরকার বাধ্য হয়ে পুনরায় এই কর ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে।