পুজোর মণ্ডপ থেকে ফেরার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার চেষ্টা! সিভিক ভলান্টিয়ারের কাণ্ডে চরম চাঞ্চল্য

দুর্গাপুজোর উৎসবের আমেজের মাঝেই খাস কলকাতায় চরম চাঞ্চল্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন সেরে ফেরার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, একজন মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার সরাসরি তাঁর দিকে এগিয়ে আসেন এবং ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন। এই আকস্মিক ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মহিলার নাম অনসূয়া সাহা। তিনি কলকাতার নিউ আলিপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মহিলার পোস্টিং ছিল পশ্চিম বন্দর থানায়। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের কর্মক্ষেত্রে বা ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কী কারণে তিনি এই চরম পদক্ষেপ করতে গেলেন এবং কীভাবে নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে মমতার কাছাকাছি পৌঁছলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা তৃণমূল নেত্রী উপাসনা চৌধুরী সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, অভিযুক্ত মহিলা ছুরি হাতে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে হামলার উদ্দেশ্যেই এগিয়ে এসেছিলেন। অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত মহিলা সেই সময় সম্পূর্ণ নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইঝি বলে ভিড়ের মধ্যে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তিনি অত্যন্ত চতুরভাবে সুরক্ষার বেষ্টনী পার করে অন্দরে ঢোকার চেষ্টা চালান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অন্দরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

এই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রবল প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তাবড় নেতা-নেত্রীরা। ভিআইপি সুরক্ষার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কীভাবে এমন ত্রুটি দেখা দিল, তা নিয়ে উঠছে নানা মহলের জল্পনা। বর্তমানে গোটা ঘটনাটির নেপথ্যে কোন গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে নাকি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কোনো মানসিক অবসাদ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করেছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে কালীঘাট থানার পুলিশ। সমস্ত মহলের নজর এখন পুলিশের নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্টের দিকেই।