উৎসবের মরশুমেও কমছে না দিল্লির নিরাপত্তা! রাহুল গান্ধীর আন্দোলনের ছকে রাজধানী জুড়ে ২০ হাজার অতিরিক্ত জওয়ান

দুর্গাপুজো, নবরাত্রি এবং দশেরার মতো দেশজুড়ে উৎসবের মরশুম শুরু হলেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির চলমান রাজনৈতিক আন্দোলন এবং উত্তেজনা কমছে না। উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষ যাতে পরিবারের সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত কাটাতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে বিরোধীদলগুলির পক্ষ থেকে আপাতত আন্দোলন কিছুটা শিথিল করে রাজ্যস্তরে তা পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ছুটির আবহেও জাতীয় রাজধানীর নিরাপত্তা বলয়ে বিন্দুমাত্র কড়াকড়ি কমাচ্ছে না দিল্লি পুলিশ।

জানা গেছে, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর পরবর্তী রাজনৈতিক আন্দোলনের গোপন পরিকল্পনা ও রণকৌশল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ার পরেই দিল্লি পুলিশ রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বহাল রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সরকারি বাসভবনে বিরোধী নেতাদের এক উচ্চপর্যায়ে চা চক্র ও বৈঠকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, উৎসবের দিনগুলিতে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলিতে আন্দোলন জোরদার রাখতে হবে। পাশাপাশি, তিনি সমস্ত দলের নেতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন—যেকোনো মুহূর্তে অত্যন্ত কম সময়ের নোটিসে রাজধানীতে পৌঁছানোর জন্য সকলে যেন সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকেন। রাজনৈতিক মহলের জোরালো ধারণা, উৎসবের এই দিনগুলির মধ্যেই আচমকা দিল্লিতে ফের কোনো বড়সড় আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন রাহুল।

মূলত গত ১০ অক্টোবর সিজেপির (CJP) বিতর্কিত যন্তর মন্তর অভিযানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার থেকেই এই বাড়তি সতর্কতার সূত্রপাত। ওই দিন পুলিশ যন্তর মন্তর এলাকায় আন্দোলন পণ্ড করে দিলেও আন্দোলনকারীরা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং একাধিক জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধেছিল। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক উপলব্ধি করেছে যে, যন্তর মন্তরকে নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করলেও বিক্ষোভকারীদের রাজধানীতে প্রবেশ পুরোপুরি আটকানো সম্ভব হয়নি। গোটা দিল্লি জুড়েই সেদিন ব্যাপক বিক্ষোভের জমায়েত দেখা গিয়েছিল।

এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, আপাতত লোকসমক্ষে আন্দোলনের তীব্রতা কিছুটা কমানো হলেও রাজধানীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বলয় সর্বতোভাবে অক্ষুন্ন রাখা হবে। গত ১০ অক্টোবর রাজধানীতে ৫০ হাজারের বেশি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল, যার মধ্যে একাংশ ছিল পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিমানযোগে দ্রুত আনা প্রায় ২৭ হাজার অতিরিক্ত আধা সেনা। দিল্লি পুলিশের এই জরুরি অনুরোধ সম্পূর্ণ মেনে নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ওই অতিরিক্ত আধা সেনার বাহিনীকে আপাতত রাজধানীতেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২০ অক্টোবর এই নিরাপত্তা পরিস্থিতির ফের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা করা হবে।