দিনের বেলায় ল্যাপটপ-বই, রাতে রামলীলার মঞ্চে রাম-সীতা-রাবণ! এক অন্যরকম পরিবারের তাক লাগানো গল্প

সন্ধ্যায় রামলীলার জমকালো মঞ্চে যাঁদের আমরা ভগবান রাম, সীতা বা রাবণের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখি, তাঁদের বাস্তব জীবনটা কেমন? উত্তর মিলবে নয়ডার সেক্টর ১২১-এর রামলীলা ময়দানে। আলো ঝলমলে মঞ্চের পিছনের চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা, যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দিনের বেলা অফিস, ব্যবসা কিংবা স্কুলের পড়াশোনা সামলে এই পরিবারের সদস্যরা রাতের বেলা রামলীলার মঞ্চ কাঁপাচ্ছেন।
পারিবারিক বন্ধন আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি নিষ্ঠার এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গিয়েছে এই পরিবারে। রামের ভূমিকায় অভিনয় করা অভিষেক ভরদ্বাজ পেশায় একজন কর্পোরেট কর্মী। গত দেড় মাস ধরে রাম চরিত্রের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন তিনি। ল্যাপটপে অফিসের জরুরি কাজ, ক্লায়েন্টদের সঙ্গে মিটিং সেরে সোজা পৌঁছে যান রামলীলার মেকআপ রুমে। অনেক সময় মেকআপ শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁকে অফিসের কাজ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে, রাবণের মতো শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করা অমিত শর্মা সামলান তাঁর নিজস্ব পোশাকের ব্যবসা। সারাদিন ব্যবসার হাজারো ব্যস্ততা সামলে মঞ্চে খলনায়কের রূপ ফুটিয়ে তোলা তাঁর কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
তবে এই পরিবারের সবচেয়ে অনুপ্রেরণামূলক দিকটি লুকিয়ে রয়েছে পড়াশোনার সঙ্গে অভিনয়ের এই ভারসাম্য বজায় রাখার মধ্যে। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সমৃদ্ধি ভরদ্বাজ রামলীলায় বালিকা সীতার চরিত্রে অভিনয় করছে। আবার শৌর্য ভরদ্বাজ, যে রাবণের বাল্যকালের চরিত্রে অভিনয় করছে, সে ব্যস্ত তার দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। রামলীলার মঞ্চের পিছন দিকেই বইপত্র ও খাতা খুলে হোমওয়ার্ক করতে দেখা যায় তাকে। স্কুলের পড়াশোনা ও অভিনয়ের মহড়া— দুইয়ের মধ্যে দারুণ ভারসাম্য রেখে চলছে এই ভাই-বোন।
পেশা বা বয়স আলাদা হলেও, রামলীলার প্রতি তাঁদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং একনিষ্ঠতাই আজ তাঁদের সকলের নজর কেড়েছে।