দিল্লিতে আন্দোলনের মধ্যেই পদত্যাগ করলেন মোদীর মন্ত্রী, রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা!

দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের উত্তাপ এবং মন্ত্রিসভায় রদবদলের জল্পনার মধ্যেই পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। শুধু মন্ত্রিত্ব ছাড়ায়ই নয়, নিজের রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্তারিত চিঠিতে নিজের এই ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন মুরুগান। তাঁর এই পদত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেছে জোর চর্চা।
প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মুরুগান জানিয়েছেন, মোদীর নেতৃত্বে বিগত পাঁচ বছর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। তবে এবার তিনি তামিলনাড়ুতে ফিরে দলের সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিজের শতভাগ সময় ও শক্তি নিবেদন করতে চান। যদিও তাঁর এই ইস্তফা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য মেলেনি।
দিনমজুরের পরিবার থেকে উঠে আসা মুরুগান নিজের চিঠিতে আবেগঘন কণ্ঠে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি কোনো রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান নন। তাঁর বাবা-মা দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং গবাদি পশুও চরাতদন্ত। আজও তামিলনাড়ুর কোনুর গ্রামের বাড়িতে তাঁর পরিবার অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করে। কলেজ জীবন থেকেই অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ বা এবিভিপির সঙ্গে যুক্ত হওয়া মুরুগান প্রায় তিন দশক ধরে তিল তিল করে নিজেকে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয় তফসিলি জাতি কমিশনের উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি মোদী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার, সংসদীয় বিষয়ক এবং মৎস্য ও পশুপালন দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক সফলভাবে পরিচালনা করেছেন তিনি।
চিঠির শেষভাগে মুরুগান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগামী দিনে তামিলনাড়ুর প্রতিটি গ্রাম ও অলিগলিতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবেন এবং দলের কর্মীদের পাশে থেকে সংগঠনের ভিত মজবুত করবেন। ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণের এই রাজ্যে বিজেপির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাত শক্ত করাই এখন তাঁর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য।