ভুরু ঝরে পড়ার সমস্যাকে সাধারণ ভাবছেন? এই মারাত্মক রোগের লক্ষণ নয় তো!

সৌন্দর্য সচেতন মানুষের কাছে মুখের রূপ এবং চোখের প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চোখের ওপরের ভুরু বা আইব্রো মুখের অভিব্যক্তিকে সুন্দর করে তুলতে দারুণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ভুরু পাতলা হয়ে যাচ্ছে বা ঝরে পড়ছে। অধিকাংশ মানুষই এটিকে সাধারণ সমস্যা বা বার্ধক্যের ছাপ ভেবে এড়িয়ে যান। অথচ ডার্মাটোলজিস্ট এবং চিকিৎসকদের মতে, ভুরু পাতলা হয়ে যাওয়ার এই সমস্যা কেবল প্রসাধনীর ভুল ব্যবহারের ফল নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধা একাধিক মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সঙ্কেত হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ভুরু ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) বা হাইপারথাইরয়েডিজম—উভয় ক্ষেত্রেই থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ না করায় চুলের ফলিকলগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে মাথার চুলের পাশাপাশি ভুরু ও শরীরের অন্যান্য অংশের পশম দ্রুত ঝরতে শুরু করে। বিশেষ করে ভুরুর বাইরের দিকের অংশ যদি পাতলা হতে শুরু করে, তবে তা থাইরয়েডের ক্লাসিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
দ্বিতীয়ত, অটোইমিউন রোগ যেমন ‘অ্যালোপেসিয়া অ্যারিয়েটা’ (Alopecia Areata)। এই রোগে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত স্বাস্থ্যকর হেয়ার ফলিকলগুলোকে আক্রমণ করে, যার ফলে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গা থেকে লোম বা চুল হঠাৎ করে ঝরে পড়ে। এর ফলে ভুরুতে ছোট ছোট ফাঁকা দাগ বা গোল গোল খোপের সৃষ্টি হতে পারে। তৃতীয়ত, পুষ্টির মারাত্মক অভাব। শরীরে বায়োটিন, আয়রন, প্রোটিন এবং ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি দেখা দিলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ভুরু পাতলা হয়ে যায়।
চতুর্থত, স্ক্যাল্প বা ত্বকের ইনফেকশন এবং সোরিয়াসিস বা একজিমার মতো চর্মরোগ। এই ধরনের প্রদাহজনক রোগ ত্বকের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে এবং হেয়ার ফলিকলগুলির ক্ষতি করে। পঞ্চমত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা ক্রনিক স্ট্রেস। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অবসাদ শরীরের হরমোনের ম্যাপ পরিবর্তন করে দেয় এবং ‘টেলোজেন ইভ্লুভিয়াম’ অবস্থার সৃষ্টি করে, যার প্রভাবে ভুরু ও মাথার চুল ব্যাপকভাবে ঝরতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি আপনার চোখের ভুরু অতিরিক্ত মাত্রায় ঝরতে শুরু করে এবং সাধারণ কোনো উপায়ে তা ঠিক না হয়, তবে বিন্দুমাত্র দেরি না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। রক্ত পরীক্ষা এবং থাইরয়েড প্রোফাইল চেক করিয়ে মূল রোগ শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে কারণ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব এবং আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার করা যায়।