“৪ লাখ কোটি টাকা তুলে নিলেন বিদেশিরা”-টানা ১০ মাস পতনে কপালে হাত বিনিয়োগকারীদের

বিশ্ব বাজারে যখন আশার আলো দেখছে বিনিয়োগকারীরা, ঠিক তখনই উলটপুরাণ ভারতীয় শেয়ার বাজারে। মার্কিন বাজার চাঙ্গা থাকলেও গত প্রায় ১০ মাস ধরে লাগাতার নিম্নমুখী ভারতের শেয়ার বাজার। আমেরিকার বাজার বাড়লে যেখানে ভারতীয় বাজার হু হু করে ওপরে ওঠার কথা, সেখানে এই দীর্ঘমেয়াদি পতন রীতিমতো ঘুম উড়িয়েছে লগ্নিকারীদের।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই লাগাতার পতনের প্রধান ও মূল কারণ হলো বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) বেপরোয়া শেয়ার বিক্রি। ২০২৬ সাল শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ৪ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। এমনকি শুধু বিগত ৯ দিনেই বাজার থেকে হাওয়া হয়ে গেছে প্রায় ৬০, কোটি টাকা।
বিনিয়োগকারীদের একাংশের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাজেটে ফিউচার ও অপশন (F&O) ট্রেডের ওপর সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) বাড়িয়ে দেওয়ার ফলে বাজার আরও গভীর সংকটে পড়েছে। মার্চ মাসে বড় পতনের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন শিল্প বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বললেও, এসটিটি বা করের বোঝা কমানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, লাগাতার টাকার অবমূল্যায়ন এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কেন ভারতীয় বাজার থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন বিদেশি ফান্ডগুলি? বিশেষজ্ঞদের মত, ভারতের জটিল কর ব্যবস্থার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বারেবারে নিরাশ হচ্ছেন। দেশে দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী লাভের (LTCG) হার ১২.৫% এবং স্বল্পমেয়াদী মূলধনী লাভের (STCG) হার ২০%, যা বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লাভের মার্জিন অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। এর ওপর এফ অ্যান্ড ও (F&O) লেনদেনে অতিরিক্ত এসটিটি কোপ বসানোয় কম ঝুঁকিতে বেশি মুনাফার সুযোগ হারাচ্ছে দেশীয় বাজার।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এই রক্তক্ষরণ থামাতে এবং বাজারকে ফের স্থিতিশীল করতে কেন্দ্রকে অতি দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও আকর্ষণীয় আর্থিক নীতি ঘোষণা করতে হবে। অন্যথায়, বিনিয়োগকারীদের মোহভঙ্গ কাটিয়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারকে ট্র্যাকে ফেরানো বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।