মহালয়ার সকালেই দিল্লিজুড়ে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা! পুলিশের কঠোর ব্যারিকেড ভেঙে প্রতিবাদের হুংকার সিজেপি প্রধানের

মহালয়ার পুণ্য প্রভাতে দেবীপক্ষের সূচনার দিনেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজধানী দিল্লি। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ, শনিবার যন্তর মন্তরে মেগা বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। তবে এই আন্দোলন রুখতে দিল্লি প্রশাসনের তরফ থেকে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে মেট্রো ও ট্রেন চলাচল। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে সিজেপি কর্মী ও সমর্থকেরা আন্দোলনের ময়দানে নেমে পড়েছেন। এর মধ্যেই চরম নাটকীয়তার মধ্যে মুম্বই থেকে দিল্লি আসার পর বিমানবন্দর চত্বরে পা রাখার আগেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাঁর দুই সহযোদ্ধা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়ার ঠিক আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন ও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তায় অভিজিৎ দীপকে লিখেছেন, “জীবন কাটানোর দুটি মাত্র পথ রয়েছে—এক, যা ঘটছে তা হতে দাও এবং সহ্য করতে থাকো; অথবা দুই, পরিস্থিতি বদলানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নাও।” বিমান থেকে নামার সময় তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে জানান, তিনি দেশবাসীর অধিকারের লড়াইয়ে পিছপা হবেন না। এদিকে, দলের তরফে আন্দোলনকারীদের জন্য একটি কঠোর নির্দেশিকা (Protest Briefing) জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রতিবাদ যেন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক হয়। পুলিশি বা সরকারি সম্পত্তির ওপর হামলা, উসকানিমূলক স্লোগান, বা অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি পরিষেবা ব্যাহত করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে প্রশাসনের শত দমনপীড়ন ও হাজার হাজার পুলিশি পাহারা সত্ত্বেও সিজেপি নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন থামবে না। সব মিলিয়ে মহালয়ার ভোরে দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।