পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের গোপন ছক ফাঁস! দিল্লির প্রতিবাদ মিছিলে মৃত্যুর ভুয়া খবর ছড়িয়ে অশান্তির চেষ্টা

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক বিক্ষোভের আড়ালে সীমান্তপারের গভীর ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করল দিল্লি পুলিশ। সম্প্রতি রাজধানীতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলন এবং প্রতিবাদের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলার চরম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চালায়। তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যে, এই হ্যান্ডেলগুলি থেকে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল তথ্য প্রচার করা হচ্ছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের যুবসমাজ ও ছাত্রদের উসকে দিয়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা।

দিল্লি পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস (আইএফএসও) ইউনিটের সক্রিয় পদক্ষেপে এই সমস্ত নাপাক চেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর থেকেই পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বেশ কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ভারতে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন পোস্ট করা শুরু করে। এআই-নির্মিত বা বিকৃত ভিডিওর মাধ্যমে দেশের পরিবেশকে কলুষিত করার এই অপচেষ্টা রুখতে দ্রুত পদক্ষেপ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই কনট প্লেস, তিলক মার্গ, বারখাম্বা এবং মন্দির মার্গ থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারা এবং বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা (নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন) অনুযায়ী মোট চারটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর দায়ের করেছে। পাশাপাশি, এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৫০০টি আপত্তিকর ও প্ররোচনামূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। সন্দেহজনক ও ভুয়া খবর ছড়ানো বেশ কিছু অ্যাকাউন্টও পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সাইবার জগৎ ও সোশ্যাল মিডিয়ার গতিবিধির উপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে এই ধরনের ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।