লুকিয়ে রিয়ালিটি শোয়ে এন্ট্রি! নন্দিনীকে পুত্রবধূ হিসেবে মানতে কি রাজি রাজবীরের মা?

‘বিগ বস বাংলা’র ঘরে পা রাখার পর থেকেই রাজবীর দে এবং নন্দিনী দত্তের মধ্যকার রসায়ন নিয়ে দর্শকদের কৌতূহলের অন্ত নেই। শোয়ের অন্দরে তাঁদের খুনসুটি, অভিমান এবং ঘনিষ্ঠ মুহূর্তগুলো নিয়মিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অনেকের মতেই এটি শুধুমাত্র গেম প্ল্যান বা ক্যামেরার লাইমলাইটে থাকার কৌশল। তবে অন্য একটি বড় অংশের বিশ্বাস, এই রসায়ন নেহাত অভিনয় নয়। এরই মাঝে নন্দিনীর পরিবার রাজবীরকে জামাই হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত বলে খবর চাউর হয়েছে। আর এবার ছেলের ব্যক্তিগত জীবন, বিগ বসে অংশ নেওয়া এবং নন্দিনীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রথমবার মুখ খুললেন খোদ রাজবীরের মা।
ছেলের বিগ বসের মতো বড় রিয়ালিটি শোয়ে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলতে গিয়ে রাজবীর মা জানান, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। মা যাতে দুশ্চিন্তা না করেন, সেই কারণেই তাঁকে আগে থেকে জানাননি রাজবীর। মায়ের কথায়, “ও তো আমাকে বলেইনি। বিগ বসে যাচ্ছে, জানে মা টেনশন করবে। যেদিন বিগ বসে পুরো সেটেল হয়ে গেল, তার দুদিন আগে বলল।” অথচ মজার বিষয় হল, যে শোয়ে যাওয়ার কথা রাজবীর গোপন রেখেছিলেন, সেই বিগ বস বাংলা দেখার পরামর্শ একসময় নিজেই ছেলেকে দিয়েছিলেন তাঁর মা। কীভাবে খেলায় টিকে থাকতে হয়, তা বোঝার জন্যই তিনি শোটি দেখতে বলেছিলেন। তখনই রাজবীর জানান যে সেই কাজের জন্যই তাঁর সঙ্গে কথা চলছে।
ছেলের ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রাজবীরের মা রামকৃষ্ণ মিশনের কঠোর অনুশাসনের দিনগুলির কথা স্মরণ করেন। সেখানে তাঁর স্বাধীনচেতা স্বভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রথম দিকে অনেকের সমস্যা হলেও, নিজের ভালো গুণের জোরে সে সকলের মন জয় করে নিয়েছিল। বিশেষ করে সেখানকার এক মহারাজের সঙ্গে রাজবীরের গভীর সম্পর্ক ছিল। মায়ের কথায়, “রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রমের মহারাজজি ওর প্রাণ ছিল। ওই মহারাজজি থাকার জন্যই আমি অনেকটা সেফ ছিলাম।”
এদিকে বিগ বসের ঘরে নন্দিনীর সঙ্গে রাজবীরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে যখন চর্চা তুঙ্গে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে দুই পরিবারের মতামত নিয়ে। নন্দিনীর পরিবারের পজিটিভ মনোভাবের কথা আগেই শোনা গিয়েছিল। এবার রাজবীরের মায়ের বক্তব্যেও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, ছেলে যদি নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে নন্দিনীকে বেছে নেয়, তবে পরিবারের কোনো আপত্তি থাকবে না। ছেলের খুশিতেই নিজের খুশি দেখতে চান তিনি। তবে পর্দার এই প্রেমের রসায়ন ঘরের বাইরেও কতটা স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার।