দিল্লি জুড়ে ৩৫ হাজার জওয়ান ও আকাশে ড্রোন! যন্তর মন্তর ঘেরাওয়ের আগে কাঁপছে রাজধানী!

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি ও কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে উত্তাল জাতীয় রাজধানী দিল্লি। শনিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্বঘোষিত ‘যন্তর মন্তর’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে সমগ্র শহর। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে এই বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়েছে সিজেপি। বিক্ষোভ রুখতে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে গণপরিবহণে বিধিনিষেধ, রুট পরিবর্তন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।
দিল্লি পুলিশ এই বিক্ষোভের কোনো অনুমতি দেয়নি। তবুও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শক্ত বার্তা দিয়েছেন সিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মিলিয়ে ৩৫ হাজারেরও বেশি জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। আকাশপথে নজরদারি চালাতে উড়ানো হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরা, সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ফেসিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম ও সিসিটিভি। মধ্য দিল্লির স্পর্শকাতর এলাকা এবং হোটেল চত্বরগুলোতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি শহরের সীমান্তবর্তী ৩০টিরও বেশি পয়েন্টে কড়া নাকা চেকিং শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রাজধানীতে গণপরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (ডিএমআরসি) ৪৫টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, নতুন দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশন থেকে ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত সমস্ত ট্রেন চলাচল বাতিল ঘোষণা করেছে ভারতীয় রেল। এছাড়া, সংবেদনশীল জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের ৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ করতেই রাজধানী অবরুদ্ধ করা হচ্ছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন সমস্ত অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।