শতায়ু ভোটারের বয়স ১৫০ বছর! মহারাষ্ট্রের ভোটার তালিকায় এই বিরাট গরমিল দেখে চক্ষু চড়কগাছ নির্বাচন কমিশনের!

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ফের একপ্রান্তে চরম বিতর্কের মুখে পড়ল। মহারাষ্ট্রের খসড়া ভোটার তালিকায় দেখা মিলল এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর গরমিলের। রাজ্যের মাত্র তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রেই শতায়ু ভোটারের সংখ্যা দেখানো হয় ২ লক্ষ ৭০ হাজার ৩১৩ জন! এই বিপুল ভুল প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার অন্তর্গত কলবন (ST), চাঁদওয়াড় এবং দেবলালী (SC)—এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই চোখ কপালে ওঠে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। ওই ২ লক্ষ ৭০ হাজার ৩১৩ জন শতায়ু ভোটারের মধ্যে একাংশ অর্থাৎ ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৭৪ জনই ছিল শুধুমাত্র ওই তিন কেন্দ্রের ভোটার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভোটারদের অধিকাংশের বয়স দেখানো হয়েছিল ১০১ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে এবং বহু ভোটারের জন্মসাল দেখানো হয়েছিল ১৯০০ সাল! এমনকি খসড়া তালিকায় ১২৬ বছর বয়সি ভোটারের সংখ্যাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই নড়েচড়ে বসে মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর। সীমা খন্নার নেতৃত্বাধীন কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসআইআর-পূর্ব ভোটার তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়। ত্রুটি সংশোধনের আর্জি জানিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ও ৮ সেপ্টেম্বর চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সুরাহা না হওয়ায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এস চোকলিঙ্গম সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ডেপুটি কমিশনার মনীশ গর্গকে চিঠি লিখে দ্রুত নথি ও সংশোধনের তাগাদা দেন।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র পক্ষ থেকে গত ৫ অক্টোবর বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নড়েচড়ে বসে কমিশন। অবশেষে গত ৬ অক্টোবর ওই ভুলের নিষ্পত্তি করা হয়। কমিশনের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক স্বীকার করেছেন যে, প্রযুক্তিগত বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে জন্মের সাল ভুলবশত ১৯০০ হয়ে গিয়েছিল, যা পরে সিস্টেমে ঢুকে সংশোধন করা হয়েছে।
তবে এই ত্রুটি সংশোধন করতে কেন এক মাসেরও বেশি সময় লাগল, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে কমিশনের অন্দরের মতবিরোধের খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল। জানা গিয়েছিল, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন। সবমিলিয়ে, মহারাষ্ট্রের এই ভোটার তালিকা বিভ্রাট দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কর্মদক্ষতা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিল।