ক্ষমা চাওয়ার পরেও রক্ষা পেলেন না চালক যুবক! দিল্লির বিলাসবহুল ক্লাবে ঘটা এই লোমহর্ষক কাণ্ডে তোলপাড়

জাতীয় রাজধানী দিল্লির সরাই রোহিলা এলাকার একটি অভিজাত নাইটক্লাবে ঘটা এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা দেশে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সামান্য একটি ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে নাইটক্লাবের বাউন্সার ও ওয়েটারদের পৈশাচিক নির্যাতনে প্রাণ হারাতে হয়েছে ২৯ বছর বয়সী এক চালক যুবককে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নাইটক্লাবের মালিক সহ একাধিক মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার গভীর রাতে রাজধানীর জাখিরা এলাকার ‘টর হাউস’ (Thor House) নাইটক্লাবে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম দলজিৎ (২৯)। তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন এবং দিল্লির রঘুবীর নগর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পরিবারে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী এবং আট বছরের একটি ছোট ছেলে রয়েছে। দলজিতের আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।

জানা গেছে, ঘটনার রাতে দলজিৎ তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ওই নাইটক্লাবে গিয়েছিলেন। আনন্দ উপভোগের সেই মুহূর্তটি মুহূর্তেই বিভীষিকায় পরিণত হয়, যখন ঘটনাক্রমে দলজিতের শরীর থেকে বিয়ারের কিছু ফোঁটা এক মহিলার গায়ে গিয়ে পড়ে। এই সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি ও বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দলজিৎ ও তাঁর বন্ধুরা সঙ্গে সঙ্গেই ওই মহিলার কাছে হাত জোড় করে বারবার ক্ষমা চেয়ে নেন। কিন্তু নরপশু বাউন্সাররা তাঁদের কোনো কথাই শুনতে রাজি হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে, ক্ষমা চাওয়ার পরও টর হাউস নাইটক্লাবের বাউন্সাররা লাঠি এবং কাঁচের বোতল নিয়ে দলজিৎ ও তাঁর বন্ধুদের ওপর চড়াও হয়। শুধু তাই নয়, হোটেলের অন্যান্য ওয়েটাররাও এই হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। আতঙ্কিত যুবকরা যখন প্রাণ বাঁচাতে কোনোমতে নাইটক্লাব থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তখন আক্রমণকারীরা তাদের জোর করে টেনেহিঁচড়ে আবার ভেতরে নিয়ে যায় এবং পশুর মতো পেটাতে থাকে। এই নির্বিচার মারধরের জেরে সবচেয়ে গুরুতর আঘাত পান দলজিৎ।

আক্রমণকারীদের হাত থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দলজিতের বন্ধুরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় দিল্লির রঘুবীর নগরে তাঁর নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর পরেই দরজার ঠিক সামনে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন দলজিৎ। পরিবারের লোকজন ও বন্ধুরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় গুরু গোবিন্দ সিং হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবর পেয়েই সরাই রোহিলা থানার পুলিশ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। নাইটক্লাবের অন্দরে থাকা সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (DVR) বা ডিভিআর বাজেট করে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। অভিযুক্ত বাউন্সার ও ওয়েটারদের শনাক্ত করার পাশাপাশি পলাতক বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি তল্লাশি চলছে। নাইটক্লাবগুলোর এই ধরনের বেপরোয়া হিংস্রতা ও নিরাপত্তার চরম ঘাটতি নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন সচেতন নাগরিকরা।