মহালয়ার ভোরে এল বড় বার্তা! দেশবাসীকে কী শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

আজ শুভ মহালয়া। ভোরে চণ্ডীপাঠের সুর আর পিতৃপুরুষের তর্পণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হয়ে গেল বাঙালির শারদোৎসব তথা দেবীপক্ষের। মহালয়ার এই পবিত্র ও পুণ্যতিথিতে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি।

এক্স হ্যান্ডেলে (প্রাক্তন টুইটার) দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ‘‘শুভ মহালয়া! মা দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি। মায়ের আশীর্বাদ আমাদের সমাজকে সুখ, সহমর্মিতা এবং আশায় পূর্ণ করুক। চতুর্দিকে শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করুক।’’ প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছাবার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আনন্দ দ্বিগুণ করে দেয়।

পাশাপাশি, রাজ্যবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন, ‘‘পবিত্র ও আনন্দের দুর্গাপুজো উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মা দুর্গা আদি শক্তির প্রতীক। তিনি অন্যায় ও অধর্মের বিনাশ করেন, ধর্মকে রক্ষা করেন এবং সত্য ও ন্যায়ের জয় নিশ্চিত করেন। আমরা সবাই পরিবারের মতো মিলেমিশে শক্তির এই পবিত্র উৎসব পালন করি। একই সঙ্গে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে উৎসাহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে চলি। শুভ দুর্গাপুজো, জয় মা দুর্গা।’’

এদিকে, দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার এই পুণ্যলগ্নে ভোররাত থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের জলঘাটগুলিতে মানুষের ঢল নেমেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঐতিহাসিক গঙ্গাসাগর সৈকতে পুণ্যস্নান ও পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পণের জন্য হাজার হাজার পুণ্যার্থীর ভিড় জমেছে। সাগরে স্নান সেরে সকাল থেকেই কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিতে লম্বা লাইন দিয়েছেন ভক্তরা।

পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কচুবেড়িয়া ভেসেল ঘাট, মূল স্নানঘাট এবং কপিল মুনি আশ্রম চত্বরে পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সিসিটিভি ক্যামেরার পাশাপাশি ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি। পাশাপাশি জলপথে দুর্ঘটনা রোধে কোস্টাল পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা সদা তৎপর রয়েছেন। নির্দিষ্ট ড্রপ গেট ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে পুণ্যার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হচ্ছে।

যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও সুগম করতে অতিরিক্ত বাস ও ভেসেলের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। তাছাড়া পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে স্বাস্থ্য শিবির, বিশুদ্ধ পানীয় জলের বন্দোবস্ত, অস্থায়ী শৌচালয় এবং পোশাক পরিবর্তনের ঘরের মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে, প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় মহালয়ার পুণ্যলগ্নে সাগরে তর্পণ ও পুণ্যস্নান উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।