‘জেলে যেতে রাজি, পদত্যাগ করতেই হবে!’ দিল্লি রওনা হওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীকে বেনজির আক্রমণ CJP প্রধানের!

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR)-কে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম মুছে ফেলার মারাত্মক অভিযোগে রণক্ষেত্র রাজধানী দিল্লি। শনিবার নির্ধারিত ‘যন্তর মন্তর ২.০’ বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি একবারে অগ্নিগর্ভ। এই চরম উত্তেজনার আবহেই মুম্বই থেকে দিল্লি রওনা দেওয়ার সময় সুর চড়ালেন ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) শীর্ষ কর্মী অভিজিৎ দিপকে। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে দরকার পড়লে তিনি হাসিমুখে জেলে যেতেও পিছপা হবেন না।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আপনারা যদি ভাবেন জেলের ভয় দেখিয়ে আমাদের থামিয়ে দেবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমরা জেলে যেতে তৈরি। চাইলে আমাদের বন্দি করতে পারেন, এনএসএ (NSA) বা ইউএপিএ (UAPA)-র মতো কঠোর আইন চাপাতে পারেন, কিন্তু দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে এই লড়াই আমরা থামাব না।” তাঁর অভিযোগ, প্রায় ১৩ কোটি বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতেই পুরো দিল্লিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে বলে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কড়া তোপ দাগেন তিনি।

এদিকে সিজেপি-র বিপুল জনসমাবেশের ডাকের পর দিল্লিকে কার্যত এক দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। পুলিশের অনুমতি না থাকলেও ‘যন্তর মন্তর ২.০’ সার্থক করতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানীতে জমায়েত হতে শুরু করায় ৩৫ হাজারের বেশি দিল্লি পুলিশ ও সিএপিএফ আধাসেনাকে রাস্তায় নামানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের নির্দেশে সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। দিল্লি জুড়ে যেখানেই বিক্ষোভের চেষ্টা হবে, সেখান থেকেই সরাসরি আটকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তারক্ষীদের লাঠি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হলেও নেতিবাচক ভিডিও রোধে জওয়ানদের অস্ত্র ছাড়া ও বচসা না জড়ানোর বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের ৬টি বড় স্টেডিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টারকে (যেমন ছত্রশাল, সুরজমল ও রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম) অস্থায়ী আটক শিবির বা জেলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, গণতন্ত্র রক্ষা ও ইস্তফার দাবিতে সরব বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির পারদ এখন ফুটছে।