“কোনো উসকানিতে পা দেবেন না!” দিল্লির মেগা বিক্ষোভের আগেই মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বড় বার্তা ধর্মীয় নেতাদের

দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত গণবিক্ষোভ কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজধানীতে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর আবেদন জানালেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডঃ ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসি। একই সুর মিলিয়ে অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভিও সাধারণ মুসলিমদের এই ধরণের বিক্ষোভ ও জমায়েত থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকার কড়া পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁদের উভয়েরই স্পষ্ট বক্তব্য, গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্বাভাবিক হলেও বিক্ষোভের আড়ালে যদি হিংসা ছড়ায়, তবে তা সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। উমর ইলিয়াসি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, দেশের চিরন্তন শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে কিছু রাজনৈতিক দল নিজেদের কায়েমী স্বার্থে সাধারণ মানুষকে উসকানি দিয়ে রাজপথে নামাচ্ছ। তাই কোনো আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরিস্থিতি বিচার করে পদক্ষেপ করার জন্য তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
আগের বিভিন্ন আন্দোলনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডঃ উমর ইলিয়াসি আরও বলেন যে, অতীতে উসকানিমূলক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বহু নির্দোষ মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন এবং তাঁদের পরিবার এখনও আইনি ও আর্থিক চরম সঙ্কটের মুখে দিন কাটাচ্ছে। সেই কারণেই কোনো রাজনৈতিক সুবিধাভোগী দলের চটকদার কথায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছেন। শুধু নিজেদে সতর্ক থাকাই নয়, নিজেদের সন্তান ও যুবসমাজকে যাতে এই ধরনের স্পর্শকাতর কর্মসূচিতে না পাঠানো হয়, তার জন্য অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, অনেক সময় কৌতুহলবশত বা পরিস্থিতি দেখতে গিয়েও নির্দোষ মানুষ পুলিশি গ্রেফতারির মুখে পড়ে। জাতীয় রাজধানীতে ইতিমধ্যেই ১৪৪ ধারা জারি থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি হুশিয়ারি দেন যে, এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভে যুক্ত হলে বা নিয়ম ভাঙলে গুরুতর আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে দেশের প্রতিটি মসজিদের ইমামদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া মুসলিম জামাতের সভাপতি মাওলানা মুফতি শাহাবুদ্দিন রজভি বেরেলভিও প্রস্তাবিত যন্তর মন্তর কর্মসূচিতে যোগ না দেওয়ার জন্য দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের যুবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভ করা প্রত্যেকেরই গণতান্ত্রিক অধিকার হলেও, যখনই কোনো কর্মসূচি হিংসাত্মক রূপ নেয়, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে হিংসার ঘটনা ঘটেছে এবং এর ফলস্বরূপ বেশ কিছু মুসলিম যুবককে আইনি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। এর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাঙ্গা বা অশান্তি ছড়াতে পারে এমন কোনো বিভ্রান্তিকর পোস্ট বা মেসেজ শেয়ার না করার জন্য উমর ইলিয়াসি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের সার্বিক শান্তি ও সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখা প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের পরম কর্তব্য বলে মনে করেন ধর্মীয় নেতৃত্ব।