মহাকুম্ভ, পঞ্চায়েত নির্বাচন আর বোর্ড পরীক্ষার প্যাঁচে কি পিছোবে ২০২৭-এর ইউপি বিধানসভা ভোট?

উত্তরপ্রদেশে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ইতিমধ্যে চরমে পৌঁছেছে। সবকটি রাজনৈতিক দল যখন ময়দানে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই यूपी বোর্ডের পরীক্ষার তারিখগুলি এক নতুন এবং জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে। ইউপি বোর্ডের ১০ম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা আগামী ৫ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্কুল, শিক্ষক, ভোটকর্মী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিখুঁত সমন্বয় সাধন করা, কারণ অধিকাংশ স্কুলই একদিকে যেমন পরীক্ষার কেন্দ্র, তেমনই অন্যদিকে বুথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অতীতে ২০১৭ এবং ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ধরন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিবারই ভোটগ্রহণ এবং ভোটগণনা পর্ব মিটে যাওয়ার পরই বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। যেমন ২০১৭ সালে ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত সাত দফায় ভোট হয়ে ১১ মার্চ ফল প্রকাশের পর ১৬ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। ২০২২ সালের ক্ষেত্রেও ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ ভোট নিয়ে ১০ মার্চ গণনার পর ২৪ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু ২০২৭ সালে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবার বোর্ড পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসেই শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই জটিল জট কাটাতে নির্বাচন কমিশনের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। একদিকে যেমন বোর্ডের পরীক্ষাসূচি মাথায় রেখে ভোটের দিন ধার্য করা হতে পারে, তেমনই অন্যদিকে অঞ্চলভিত্তিক পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনার কথাও ভাবা হচ্ছে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ মে ২০২৭-এ। এই সাংবিধানিক সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে আরও দুটি বড় বাধা—উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে ১৪ জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রস্তাবিত মহাস্নানের আসর এবং উত্তরপ্রদেশের বকেয়া ত্রিবহিস্তরী পঞ্চায়েত নির্বাচন। হরিদ্বার কুম্ভের গুরুত্বপূর্ণ স্নানগুলি (যেমন ৬ ফেব্রুয়ারি মৌনি অমাবস্যা, ১১ ফেব্রুয়ারি বসंत পঞ্চমী এবং ২০ ফেব্রুয়ারি মাঘ পূর্ণিমা) ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে থাকায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা অত্যন্ত কঠিন হবে। ফলে সমস্ত দিক বিচার করে নির্বাচন কমিশন কীভাবে সম্পূর্ণ নির্বাচনী ও পরীক্ষার ক্যালেন্ডার সাজায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।