ভোটারদের আর দিতে হবে না চক্কর! আপনার দুয়ারে পৌঁছচ্ছে বিএলও, জানুন ইসিআই-এর ৫টি নতুন নিয়ম

ভারতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ক্ষমতার অধিকারী নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। তবে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ থেকে শুরু করে দেশের রাজধানী দিল্লি পর্যন্ত ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর/SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তার জেরে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করতে বাধ্য হলো কমিশন। বিরোধী দলগুলোর টানা প্রশ্নবাণ, সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং সুপ্রিম কোর্টের কড়া দৃষ্টিভঙ্গির মুখে পড়ে একাধিক বিতর্কিত নির্দেশিকা প্রত্যাহার ও সংশোধন করেছে ইসিআই।
পশ্চিমবঙ্গের বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকায় ফের অন্তর্ভুক্ত করতে ফর্ম-৬ নিয়ে বিশেষ প্রচারাভিযান চালু করা হয়েছে। রাজ্যের ২৪টি জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকরা (DEO) বুথ স্তরে বিশেষ শিবির খুলেছেন, যাতে একজনও প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন। অন্যদিকে, দিল্লিতে এসআইআর চলাকালীন যে ৩৩ লক্ষ ভোটারের নথিতে অমিল পাওয়া গিয়েছিল, তার মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মামলার নিষ্পত্তি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট সমস্যার সমাধানের জন্য ১৮ ও ২৫ অক্টোবর বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয়েছিল অনলাইন ফর্ম-৬-এর সাথে একটি অতিরিক্ত ‘ঘোষণাপত্র’ বা ডিক্লেয়ারেশন যুক্ত করা নিয়ে, যেখানে আবেদনকারীদের পরিবারের পুরনো ইতিহাস ও রেকর্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে সর্বোচ্চ আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, তারা কোনো সংশোধিত ফর্ম অনুমোদন করেনি। আদালত ও নাগরিক মহলের চাপের মুখে পড়ে কমিশন স্পষ্ট করে যে মূল ফর্ম-৬ অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বিতর্কিত অতিরিক্ত ঘোষণাপত্রটি অবশেষে অনলাইন পোর্টাল থেকে পুরোপুরি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
পাশাপাশি, ভোটার তালিকা থেকে কারোর নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম-৭ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড়সড় রাশ টানা হয়েছে। আগে অসাধু উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ফর্ম-৭ জমা দিয়ে বৈধ ভোটারদের নাম কাটার চক্রান্তের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা বন্ধ করতে কমিশন নিয়ম করেছে—এসআইআর চলাকালীন একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০টি এবং সাধারণ সময়ে মাসে সর্বোচ্চ ৫টি ফর্ম-৭ জমা দিতে পারবেন। এছাড়া সাধারণ ভোটারদের স্বস্তি দিয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেসব ভোটারের নথিতে গরমিল রয়েছে, তাঁদের আর ইআরও (ERO) অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) নিজেরাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করবেন এবং ইসিআই-নেট পোর্টালে আপলোড করবেন। বৃদ্ধ ও দরিদ্র নাগরিকদের জন্য নির্বাচন কমিশনের এই নমনীয় অবস্থান এক বিরাট স্বস্তি এনে দিয়েছে।