নোবেল জয় ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাইয়ের! চিনেনিন কে এই নোবেলজয়ী?

এ বারেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের অধরা রইল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাগ্য। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিশিষ্ট আইনজীবী তথা রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রাক্তন মানবাধিকার প্রধান নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ঘোষণা করেছে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে অসলোতে এই নাম ঘোষণা করা হয়।

নোবেল কমিটির নজরে নাভি পিল্লাইয়ের লড়াই

নরওয়ের নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক হিংসা, সংঘাত এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানা ঘটনায় রাষ্ট্র ও ক্ষমতাধর জাতীয় নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বারবার সোচ্চার হয়েছেন ৮৫ বছর বয়সি নাভি পিল্লাই। দক্ষিণ আফ্রিকার এই বর্ষীয়ান বিচারকের দীর্ঘ কর্মজীবন ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংঘাতপীড়িত মানুষের মনে নতুন আশার আলো জ্বেলেছে। নোবেল কমিটির এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত পোস্টে তাঁর প্রশংসায় বলা হয়েছে, “নাভি পিল্লাই আমাদের সময়ের আন্তর্জাতিক আইনি নীতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রবক্তা।”

তামিলনাড়ু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা: বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের লড়াকু মুখ

নাভি পিল্লাইয়ের পৈতৃক ভিটে ভারতের তামিলনাড়ুতে হলেও তাঁর জন্ম ১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। তাঁর বাবা নারায়ণস্বামী নাইডু ও মা সান্থামা নাইডু। নাটাল অঞ্চলে ১৯৬৭ সালে প্রথম মহিলা আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবন শুরু করেন তিনি। বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বহু কর্মী ও নেতার হয়ে আদালতে সওয়াল করে কেরিয়ারের শুরু থেকেই তিনি সাহসিকতার পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তিনি ডারবান-ওয়েস্টভিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলের সহ-সভাপতি পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক আঙিনায় ঐতিহাসিক ভূমিকা

১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্য ব্যবস্থার অবসানের পর পিল্লাই দেশের হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন। একই বছর রোয়ান্ডার গণহত্যার বিচার করতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি হিসেবেও নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই।

সাম্প্রতিক অতীতে প্যালেস্তাইন ভূখণ্ড নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তদন্ত কমিশনের সভাপতিত্বও করেছেন তিনি। গত বছর তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন গাজায় ইজরায়েলের আক্রমণকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছিল। যদিও ইজরায়েল সেই সিদ্ধান্ত কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদনটিকে মানহানিকর বলে দাবি করেছিল।

নোবেল কমিটির মতে, ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে আইনের শাসন দুর্বল হলেই মানবিক মূল্যবোধ বিপন্ন হয়। তাই বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষায় নাভি পিল্লাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের নির্ভীক ও দূরদর্শী ভূমিকা বিশ্ববাসীর কাছে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।