“বাঙালি মুসলিমরা এখন BJP সমর্থক”-নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটের ফলে উচ্ছ্বসিত শুভেন্দু

রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের সংখ্যালঘুরা এখন স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিকে (BJP) সমর্থন করছেন। মুসলিম ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির পাশে দাঁড়ানোতেই রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে এই বিপুল জয় এসেছে বলে মত তাঁর। আগামিতে এই জনসমর্থন আরও চওড়া হবে বলেও দৃঢ় আশাবাদী তিনি।
ভয় কাটিয়ে উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা
সংখ্যালঘু ভোট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, এতদিন বিরোধী দলগুলি বিজেপিকে নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও নানা আশঙ্কা তৈরি করেছিল। অপপ্রচার করা হয়েছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, ডিটেনশন শিবিরে আটকে রাখা হবে কিংবা তাঁদের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হবে।
কিন্তু গত পাঁচ মাসে রাজ্য সরকারের বাস্তবমুখী কাজ ও উন্নয়নের ধারা দেখে সেই ভুল ধারণা সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “উন্নয়নের এই যজ্ঞে মুসলিম সম্প্রদায়ের নারীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং সরকারি প্রকল্পের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা সরাসরি উপোভোগ করছেন। আর সেই কারণেই সংখ্যালঘুদের একটি বড় অংশ আজ বিজেপির প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করছেন।”
অদূর ভবিষ্যতে ৬০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটের লক্ষ্য
মুসলিম ভোটারদের সমর্থন নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যের বাঙালি মুসলমানদের একটি বিরাট অংশ এখন উন্নয়নের মূল স্রোতের সঙ্গে থাকতে চাইছেন। রেজিনগরে মুসলিম ভোটের ৬০ শতাংশ এবং নন্দীগ্রামে ৮০ শতাংশ ভোট বিজেপিই পেয়েছে বলে পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে পদ্মশিবির।
আগামী দিনের নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা
সংখ্যালঘু সমর্থনের পাশাপাশি আগামী কয়েক বছরের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ছকও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, শারদোৎসব মিটতেই হাওড়া ও কলকাতা পুরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। কারণ, আগামী বছর রাজ্যের প্রায় ১১০টি পুরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই টার্গেট সামনে রেখেই এগোতে চাইছে দল। এরপর ক্রমানুসারে ২০২৮ সালের পঞ্চায়েত ভোট এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও রাজ্যজুড়ে বিরাট জয়ের গেরুয়া লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু।