১ লক্ষ যাত্রীকে আটকাতে রেলের মেগা মাস্টারস্ট্রোক! বাতিল ২৮টির বেশি ট্রেন, তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ

আগামীকাল শনিবার জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিবাদী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংঘাত তৈরি হয়েছে। এই বিক্ষোভ রুখতে এবং রাজধানীতে জনস্রোত আটকাতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতীয় রেল। রেল সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, প্রতিবাদ কর্মসূচিকে পণ্ড করতে এবং প্রায় ১ লক্ষ যাত্রীকে ১০ অক্টোবরের মধ্যে নতুন দিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানো থেকে আটকাতে ২৮টিরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাতিল হওয়া এই দীর্ঘ তালিকার মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পূর্ণ ক্রান্তি এক্সপ্রেস, পাটনা রাজধানী এবং শিবगंगा এক্সপ্রেসের মতো মেগা ট্রেনগুলিও। রেলের এই নির্দেশিকার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিহার, উত্তর প্রদেশ এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলি থেকে যাতায়াতকারী সাধারণ যাত্রীরা।
রেল প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে যে, আগামী ১০ অক্টোবর ভোর ৪টে থেকে দুপুর ২টো পর্যন্ত যে সমস্ত মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন নতুন দিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল, সেগুলির ওপরই মূলত কোপ পড়েছে। তবে উত্তর রেলের স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, যে সমস্ত দীর্ঘ দূরত্বের ট্রেন ইতিমধ্যে অনেক আগেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে দিয়েছে, সেগুলিকে মাঝপথে বাতিল করা হয়নি। যেমন গুवाहाटी থেকে ছেড়ে আসা ডিব্রুগড় এক্সপ্রেস কিংবা দূরবর্তী কেরালা ও তামিলনাড়ু থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রাজধানীতে পৌঁছাবে। তা সত্ত্বেও, রেলের অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, শনিবার ওই নির্দিষ্ট দশ ঘণ্টার উইন্ডোতে দুই প্রধান স্টেশনে প্রায় ১৭০টি ট্রেন আসার কথা ছিল, যার মধ্যে ২৮টি ট্রেন ইতিমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে এবং এই সংখ্যাটি শেষ পর্যন্ত ৫০টিতে পৌঁছাতে পারে। শুধু তাই নয়, বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে যে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে ছেড়ে আসা অধিকাংশ ট্রেনকে নতুন দিল্লিতে না ঢুকিয়ে গাজিয়াবাদ এবং সাহিবাবাদ স্টেশনেই আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে প্রশাসন।
রেলের এই কঠোর ও আকস্মিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছে আয়োজক রাজনৈতিক দল। ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক মাধ্যমে এক বিস্ফোরক ও চ্যালেঞ্জিং বার্তা দিয়ে লিখেছেন, “সরকার কত দিন ট্রেন বাতিল করে সাধারণ মানুষকে আটকাবে? মানুষকে এভাবে দিল্লির রাজপথ থেকে দূরে রাখা অসম্ভব।” তিনি ২০২০ সালের লকডাউনের দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, যখন সমস্ত বাহন ও ট্রেন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন সাধারণ মানুষ পেটের টানে বা প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে হাজার হাজার কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছেছিলেন। এবারও যদি ট্রেন বন্ধ রাখা হয়, তবে মানুষ পায়ে হেঁটে হলেও দিল্লি পৌঁছাবে এবং কোনো দমনপীড়নই তাদের রুখতে পারবে না। সবমিলিয়ে, রেলের এই ট্রেন বাতিল ও সরকারের কড়া অবস্থানের জেরে রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ চরম সীমায় পৌঁছেছে।