“বাবরি মসজিদ আবেগ উধাও, ভরসা শুধু উন্নয়ন!”-কীভাবে পদ্মফুল ফোটালেন শুভেন্দু-শাখারভ?

রাজনৈতিক সমস্ত সমীকরণ এবং প্রচলিত ধারণা উড়িয়ে দিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী হলেন বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার। যে আসনে ধর্মীয় জনবিন্যাসের কারণে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল, সেখানে এই অভাবনীয় ফলাফল রাজ্য রাজনীতির বড়সড় মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
জয়ের নেপথ্যে কোন বড় সমীকরণ? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেজিনগরে বিজেপির এই জয়ের পেছনে কাজ করেছে একাধিক সুনির্দিষ্ট কারণ। প্রথমত, এই নির্বাচনে বিরোধী ভোটের ব্যাপক বিভাজন গেরুয়া শিবিরের পথ অনেকটাই প্রশস্ত করে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী গুলাম নবি আজাদ এবং ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় এককভাবে কোনো শক্তিশালী বিরোধী ভোটব্যাঙ্ক গড়ে ওঠেনি। পাশাপাশি, সদ্য জয়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবির রেজিনগর আসন ছেড়ে দেওয়ায় এবং তাঁর পুত্র গুলাম নবি আজাদ তুলনামূলকভাবে নতুন মুখ হওয়ায় সেই প্রভাব ধরে রাখতে পারেনি।
আবেগের বদলে উন্নয়নকে হাতিয়ার: এই নির্বাচনে বিজেপির প্রচারে সবচেয়ে বড় মাস্টারস্ট্রোক ছিল ধর্মের আবেগ বাদ দিয়ে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া। প্রচারে বাবরি মসজিদের মতো পুরোনো আবেগের রাজনীতির পরিবর্তে কলেজ, হাসপাতাল, নতুন সেতু এবং শিল্প পার্ক গড়ার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন রাজ্য নেতৃত্ব ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানো এবং স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের বার্তা ভোটারদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
কী বলছেন জয়ী প্রার্থী শাখারভ? বিজয়ী হওয়ার পর শাখারভ সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানান, “সংখ্যালঘু আর সংখ্যাগুরু বলে বিভাজনের রাজনীতি শুনে বাংলার মানুষ এখন ক্লান্ত। সংখ্যালঘু মানুষরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান। অতীতে তাঁরা পরিস্থিতি অনুযায়ী কংগ্রেস, বাম বা তৃণমূলের পাশে থাকলেও আজ নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থেই পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়ে বিজেপিকে সমর্থন করেছেন।” সবমিলিয়ে, রেজিনগরের এই অভাবনীয় ফল আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।