দিল্লি জুড়ে নজিরবিহীন লকডাউন! যন্তরমন্তরে প্রতিবাদের আগেই বাতিল হাওড়া ও শিয়ালদহ রাজধানী এক্সপ্রেস

আগামীকাল শনিবার রাজধানী দিল্লিতে এক সম্ভাব্য বিশাল রাজনৈতিক জমায়েত ও বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উত্তপ্ত ও থমথমে। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত তীব্র বিতর্কের জেরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বা সিজেপি-র পক্ষ থেকে দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ব্যাপক যানজটের আশঙ্কায় দিল্লি পুলিশ এই জনসভার অনুমতি অস্বীকার করেছে। আর এই রাজনৈতিক সংঘাতের জেরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্গে পরিণত করা হয়েছে, যা সরাসরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন।

পূর্ব রেল সূত্রে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১০ অক্টোবর নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামউদ্দিন স্টেশন চত্বরে নজিরবিহীন ভিড় এবং তীব্র যানজট এড়াতে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ দিল্লিগামী জোড়া ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’ সহ একাধিক দূরপাল্লার মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দিল্লিগামী যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। রেলের এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের স্পষ্ট অভিযোগ, যন্তর মন্তরে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি এবং জনস্রোত আটকাতেই কেন্দ্র সরকার সুপরিকল্পিতভাবে ট্রেন বাতিলের এই ছক কষেছে। যদিও রেল প্রশাসনের সাফাই, স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের সুরক্ষাই তাদের একমাত্র অগ্রাধিকার।

পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি মেট্রো কর্তৃপক্ষকেও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্য দিল্লির প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে, সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাজধানী জুড়ে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সরাসরি নির্দেশে জম্মু ও কাশ্মীর, ছত্তীসগড় এবং পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিরিক্ত বাহিনী এনে রাজধানীতে প্রায় ২৬ হাজারেরও বেশি সিএপিএফ (CAPF) জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গা বা মার্কিন রাষ্ট্রপতির ঐতিহাসিক সফরের পর রাজধানীতে এমন নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও আধা সেনার উপস্থিতি এর আগে দেখা যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের মুখে দাঁড়িয়েও সিজেপি-র আন্দোলনকারীরা সমস্ত বাধা এবং পুলিশি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যে কোনো মূল્યે যন্তরমন্তরে পৌঁছানোর হুঙ্কার দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, শনিবারের এই মেগা প্রটেস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ এই মুহূর্তে চরম সীমায় পৌঁছেছে।