এইচ-১বি ভিসার কী হবে? ট্রাম্পের নয়া পদক্ষেপে হঠাৎ কেন চরম অনিশ্চয়তায় লক্ষাধিক ভারতীয় প্রফেশনাল?

আমেরিকায় কর্মরত ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা PERM কর্মসূচি আপাতত স্থগিত বা সাসপেন্ড করল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল টেকনোলজিস, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি এবং মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বের প্রথমসারির আইটি সংস্থাগুলিতে কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন শ্রম দপ্তরের এই আকস্মিক পদক্ষেপে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভারতীয় আইটি কর্মীরা। প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের ইতিমধ্যেই গ্রিন কার্ড রয়েছে, তাঁদের ওপর কি এর কোনো প্রভাব পড়বে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান গ্রিন কার্ডধারীরা সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন না হলেও, যাঁরা নতুন করে আবেদন করছেন বা যাঁদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাঁরা মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেতে পারেন। মার্কিন প্রশাসনের যুক্তি, এই সংস্থাগুলি অতিরিক্ত মাত্রায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করায় আমেরিকার স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। সেই কারণেই বিদেশি কর্মী নিয়োগের ভিসা ও অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রুখতে এই কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, PERM বা পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাথমিক ধাপ। কর্মসংস্থানভিত্তিক EB-2 ও EB-3 বিভাগের বহু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক। তবে ওয়াকিবহাল মহলের স্পষ্ট মত, PERM কর্মসূচিতে স্থগিতাদেশ মানেই এইচ-১বি ভিসা বাতিল নয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলি যেমন নতুন PERM আবেদন করতে পারবে না, তেমনই বিচারাধীন আবেদনগুলির প্রক্রিয়াকরণও অনির্দিষ্টকালের জন্য আটকে যাবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির ফলে আগামী দিনে প্রযুক্তি সংস্থাগুলি তাদের কর্মী নিয়োগের নীতি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে।