মহালয়ায় নদীঘাটে নামার আগে সাবধান! বড় বিপদের আশঙ্কায় নবান্ন থেকে জারি হল ১২ দফার কড়া নির্দেশিকা!

মহালয়ায় তর্পণ উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত নদীঘাটে পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা এবং পরিকাঠামো সুনিশ্চিত করতে নবান্নের তরফে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের জারি করা এই ১২ দফা নির্দেশিকায় কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়াসহ রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নদীঘাটগুলিতে বিশেষ নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, আগামী ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই সমস্ত ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করতে হবে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১০ অক্টোবর ভোর ৩টে থেকেই সমস্ত বড় ঘাটে প্রশিক্ষিত ডুবুরি, উদ্ধারকারী নৌকা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন রাখতে হবে। নদীর গভীর অংশে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ রুখতে বিশেষ ব্যারিকেড ও সুরক্ষা বেষ্টনী তৈরি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি, পিচ্ছিল ঘাটে দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্কতামূলক প্রচার এবং সিঁড়ির নিরাপত্তা পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোর ৩টে থেকে ঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলের কাছাকাছি কোনও বিপজ্জনক বৈদ্যুতিক সংযোগ রাখতে নিষেধ করা হয়েছে।

ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ ও মহিলা পুলিশ মোতায়েন করা হবে। ব্যস্ততম ঘাটগুলিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য পৃথক পথ এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘাটগুলিতে প্রাথমিক চিকিৎসার শিবির এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি নিকটবর্তী হাসপাতালগুলিকেও সতর্ক রাখা হয়েছে। এছাড়া ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকেই প্রতিটি জেলা, পুলিশ কমিশনারেট এবং কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় বিশেষ নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রেলের অধীনস্থ ঘাটগুলিতেও সমন্বয় রেখে একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে নবান্ন। তর্পণের দিন পুণ্যার্থীদের সুরক্ষাকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে বিন্দুমাত্র খামতি রাখতে বারণ করা হয়েছে।