রাতের অন্ধকারে কেন শেষকৃত্য? নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস ছেলের!

হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার শিখরপুরুষ নানা পাটেকরের প্রয়াণে গোটা দেশ আজও স্তব্ধ ও শোকাহত। ৮ অক্টোবর গভীর রাতে পুণের কাছে দোনজে গ্রামে নানার ফার্মহাউস ‘নানাচি ওয়াড়ি’-র কাছে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা চোখের জলে তাঁকে শেষ বিদায় জানান। তবে কিংবদন্তি এই অভিনেতার প্রয়াণের পর থেকেই ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—কেন ভক্ত ও অনুরাগীদের শেষ দেখার সুযোগ না দিয়ে গভীর রাতে হুট করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হল? এবার এই বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেতার ছেলে মলহার পাটেকর।
শেষকৃত্যের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মলহার জানান, গোয়া থেকে মরদেহ পুণের ফার্মহাউসে নিয়ে আসার দীর্ঘ যাত্রাপথে মারাত্মক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ভোরের দিকে নানা পাটেকরের মৃত্যু হওয়ায় অনেকটা সময় পার হয়ে গিয়েছিল। তাই পচন ধরার আশঙ্কায় মরদেহ বেশিক্ষণ ফেলে রাখা অনুচিত ছিল। পরিবারের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পরিস্থিতির চাপে রাতেই শেষকৃত্যের সমস্ত আচার সম্পন্ন করতে বাধ্য হন তাঁরা।
এর পাশাপাশি বাবার সঙ্গে হওয়া শেষ কথোপকথনের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও আবেগঘন মুহূর্ত শেয়ার করেছেন মলহার। তিনি জানান, মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তেও নানা পাটেকর নিজের শারীরিক অবস্থার কথা না ভেবে একমাত্র ছেলের স্বাস্থ্য নিয়েই চরম উদ্বিগ্ন ছিলেন। মলহারের অসুস্থতার কথা মাথায় রেখে নানা তাঁকে বলেছিলেন, ‘‘আমার জন্য শুধু এটুকুই যথেষ্ট যে, তুই নিজের শরীরের যত্ন নিস।’’ রুক্ষ মেজাজ ও খলনায়কসুলভ চরিত্রের আড়ালে থাকা এক পরম মমতাময়ী পিতার এই রূপ সকলের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
সিনেমা জগতের বাইরেও নানা পাটেকর ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী। ‘নাম ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে খরা-কবলিত মারাঠওয়াড়ায় জল সংরক্ষণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন তিনি। বাবার এই অসম্পূর্ণ কাজ থেমে থাকতে দেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন মলহার। তিনি জানান, নানার অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণ করতে এবং মারাঠওয়াড়ার প্রস্তাবিত কাজগুলো এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের সিইও গণেশ থোরাটের নির্দেশনায় এই মহৎ কর্মযজ্ঞ আগের মতোই সচল রাখা হবে।