বারবার মব অ্যাটাক! তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের নিরাপত্তা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিস্ফোরক নির্দেশ

বারবার হামলার ঘটনা এবং জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে অবশেষে আদালতের কড়া নজরদারির আওতায় এলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর ওপর ঘটে চলা একের পর এক মব অ্যাটাক ও হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কুণাল ঘোষের পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট পুলিশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরাসরি নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশ কমিশনার নিজে ব্যক্তিগতভাবে কুণাল ঘোষের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবেন যাতে ভবিষ্যতে তাঁকে আর নতুন করে কোনো রকম মব অ্যাটাকের মুখোমুখি হতে না হয়। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এই সংক্রান্ত নিরাপত্তা মামলাটি উচ্চ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে স্থানান্তরিত করেছেন, যেখানে ইতিমধ্যেই ডিম ছোঁড়া সংক্রান্ত অন্য একটি জনস্বার্থ মামলার সঙ্গে এই মামলার একযোগে শুনানি সম্পন্ন হবে। ডিভিশন বেঞ্চের পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে পুলিশ কমিশনারের কাছ থেকে।
তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, একক বেঞ্চের তরফ থেকে এই মুহূর্তে অতিরিক্ত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন পুলিশি নিরাপত্তার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এদিনের শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে, বর্তমানে কুণাল ঘোষের সঙ্গে দুজন নিরাপত্তা কর্মী সর্বদা মোতায়েন থাকেন। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আদালতে অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করে জানান যে, অতীতে তিনি ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন যা পরবর্তীতে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মাত্র দুজন নিরাপত্তা কর্মী দিয়ে তাঁর জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অসম্ভব। আইনজীবী আদালতে আরও জানান যে, গত ১৫ জুন এবং পরবর্তীতে গত ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর কুণালের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে তা কেবল ডিম ছোঁড়ার ঘটনা ছিল না, বরং তা ছিল সুপরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের চেষ্টা এবং মারাত্মক মব অ্যাটাক।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের কাছে কড়া ভাষায় জানতে চান যে, দুজন পুলিশ কর্মী বা পিএসও সঙ্গে থাকা সত্ত্বেও ঠিক কীভাবে এই ধরনের মব অ্যাটাকের ঘটনা ঘটে চলেছে? প্রসঙ্গত, গত ২৬ সেপ্টেম্বর হুগলির উত্তরপাড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রীরামপুরের সভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন কুণাল ঘোষ। সেখানে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয় এবং গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। শুধু তাই নয়, ঠিক তার পরের দিন ২৭ সেপ্টেম্বর বেলেঘাটায় নিজের বিধানসভা এলাকার মধ্যেও তাঁর গাড়ি ধাওয়া করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এমনকি কুণালের গাড়ি থেকে হাতুড়িও উদ্ধার হতে দেখা গিয়েছিল। এই সমস্ত চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী দিনে ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে কী রিপোর্ট জমা পড়ে এবং আদালত কী চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।