‘পিঠ চাপড়ে বললেন, খুব ভাল কাজ করছো বেটা!’ নানা পাটেকরের চিরবিদায়ে চোখের জলে স্মৃতিচারণ প্রসেনজিতের

সাধারণ পরিবারে জন্ম, মাত্র ১৩ বছর বয়সে পোস্টার একে পড়াশোনার খরচ চালানো এক সাধারণ কিশোর যে একদিন গোটা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস বদলে দেবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। বর্ষীয়ান অভিনেতা ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি নানা পাটেকরের (Nana Patekar) আকস্মিক প্রয়াণের খবরে আজ শোকে স্তব্ধ সমগ্র দেশ ও বিনোদন জগৎ। এই নক্ষত্রপতনের খবরে গভীরভাবে শোকাহত টলিউডের ‘মেগাস্টার’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শুটিং চলাকালীন প্রবীণ অভিনেতার অকালপ্রয়াণের খবর পেয়ে ভেঙে পড়েন তিনি।

গভীর রাতে অসুস্থতা ও মর্মান্তিক পরিণতি

জানা গিয়েছে, শুটিংয়ের কাজে গোয়ায় গিয়ে নিজের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন নানা পাটেকর। সেখানেই গভীর রাতে তিনি চরম শারীরিক অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন। প্রবীণ অভিনেতা বন্ধুকে মেসেজ পাঠালেও রাতের গভীরতার কারণে সেই বার্তা কেউ দেখতে পাননি। ভোরবেলা তাঁকে বাড়িতে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে টানা এক ঘণ্টা সিপিআর (CPR) দিয়ে তাঁকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা চালান চিকিৎসকরা। তবে চিকিৎসকদের মতে, মাঝরাতে অসুস্থ হয়ে পড়া এবং খবর পৌঁছাতে দেরি হওয়ার কারণেই চিকিৎসা পেতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়, যার জেরে চিকিৎসকদের সমস্ত লড়াই ব্যর্থ করে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহান অভিনেতা।

“এর চেয়ে খারাপ খবর আর হতে পারে না”: প্রসেনজিৎ

নানা পাটেকরের চিরবিদায়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সকালে শুটিং সেটে উঠে এই খবরটা পাওয়ার পর থেকেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে রয়েছে। এর চেয়ে খারাপ খবর আর কিছুই হতে পারে না। এত সুস্থ ও কর্মঠ একজন মানুষ! উনি শুধু একজন অসামান্য অভিনেতা ছিলেন না, উনি ছিলেন অভিনয়ের একজন শিক্ষক। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিনয়ের ধারাই বদলে দিয়েছিলেন তিনি।”

‘তু আচ্ছা কাম কর রাহা হ্যায় বেটা…’

পুরনো স্মৃতির পাতায় ডুব দিয়ে প্রসেনজিৎ জানান, অ্যাওয়ার্ড শো বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা পাটেকরের সঙ্গে তাঁর দেখা হতো। একদিন তিনি প্রসেনজিতের কাঁধে হাত দিয়ে পরম স্নেহে বলেছিলেন— “তু আচ্ছা কাম কর রাহা হ্যায় বেটা, বহত আচ্ছা কাম কর রাহা হ্যায়” (তুমি খুব ভাল কাজ করছো বেটা, খুব ভাল কাজ করছো)। টলিউড সুপারস্টারের মতে, এই অনুপ্রেরণামূলক শব্দগুলোই একজন শিল্পীর জীবনের পরম প্রাপ্তি।

নানা পাটেকরের বর্ণময় অভিনয় জীবনের কথা তুলে ধরে প্রসেনজিৎ বলেন, নেতিবাচক ও পার্শ্বচরিত্র দিয়ে নিজের অভিনয় জীবন শুরু করে নিজের যোগ্যতায় তিনি মূল ধারার নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। ওঁর কথা বলার কায়দা, উচ্চারণ আর দুর্দান্ত ডায়লগ ডেলিভারির প্রেমে পাগল ছিল কোটি কোটি মানুষ। বিশেষ করে ওঁর পরিচালিত ও অভিনীত ‘প্রহার’ ছবিটিকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা সৃষ্টি হিসেবে বর্ণনা করে নানাজির অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বুম্বাদা।