রণবীর-রজনীকান্তকে সপাটে পেছনে ফেলল সৃজিতের ছবি! মুক্তির আগেই আইএমডিবি-তে সুনামি!

মুক্তির আগেই বক্স অফিস এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলতে চলে গিয়েছেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী পরিচালক সৃজিত মুখার্জি। তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ঐতিহাসিক ড্রামা ‘এম্পারর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ মুক্তির আগেই আইএমডিবির (IMDb) সবথেকে প্রতীক্ষিত নতুন ভারতীয় ছবি এবং শোয়ের তালিকার একেবারে শীর্ষস্থান দখল করেছে। রিয়েল-টাইম জনপ্রিয়তার এই দৌড়ে ছবিটি পিছনে ফেলে দিয়েছে রণবীর কাপুর অভিনীত বহুচর্চিত ‘রামায়ণ’ এবং রজনীকান্তের মেগাস্টার ছবি ‘জেলার ২’-এর মতো হেভিওয়েট প্রজেক্টগুলোকেও। আগামী ১৫ই অক্টোবর দুর্গাপুজোর আবহে বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলা এই ছবিকে ঘিরে দর্শকদের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।

আসন্ন এই ছবিটির পটভূমি সাজানো হয়েছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের এক অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অধ্যায়কে কেন্দ্র করে। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি বিপ্লবী উপন্যাস ‘পথের দাবী’র প্রকাশ এবং ব্রিটিশ সরকারের দ্বারা তা নিষিদ্ধ হওয়ার ১০০ বছর পূর্তির প্রাক্কালে তৈরি হয়েছে এই প্রজেক্ট। ১৯২৬ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসের বিপ্লবী সুর ও আদর্শকে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ প্রশাসন রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দেগে দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সংঘাত এবং একটি মাত্র কলমের আঁচড় কীভাবে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্যকে কাঁপিয়ে দিতে পারে, তারই এক রুদ্ধশ্বাস বয়ান ফুটিয়ে তুলবেন সৃজিত।

ছবির কাস্টিংয়েও রয়েছে বড়সড় চমক। প্রখ্যাত সাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করছেন টোটা রায়চৌধুরী এবং উপন্যাসের রহস্যময় বিপ্লবী চরিত্র সব্যসাচী মল্লিকের ভূমিকায় দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা আবীর চট্টোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি, গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিমি চক্রবর্তী, দিব্যাণী মণ্ডল, ঋক চ্যাটার্জি, দেবপ্রিয় মুখার্জি, সঞ্জয় নাগ, কৌশানী মুখার্জি এবং কাঞ্চন মল্লিক। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, এই ছবিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জয় নাগ।

ছবির মূল ভাবনা ও পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সংলাপ, সম্পাদনা, সঙ্গীত এবং গীতরচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলিও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন সৃজিত মুখার্জি নিজে। প্রদীপ কুমার নন্দীর ‘নন্দী মুভিজ’ প্রযোজিত এই ছবিতে চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন ইন্দ্রনাথ মারিক, আবহসংগীতে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত, রূপসজ্জায় সোমনাথ কুণ্ডু এবং পোশাক পরিকল্পনায় সাবর্ণী দাস। শরৎচন্দ্রের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীর আবহে এই ছবি কেবল বিনোদন নয়, বরং বাংলা সাহিত্য ও স্বাধীনতার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল দলিল হতে চলেছে।