রাঁচিতে আড়াইশো রানের রোমাঞ্চ নাকি সেই পুরনো আক্ষেপ? শ্রেয়াস বাহিনীদের সামনে বিরাট ইতিহাস গড়ার হাতছানি

ওয়ানডে সিরিজের পর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দুর্দান্ত শুরু করেছে টিম ইন্ডিয়া। প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ক্যারিবিয়ান বাহিনীকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ৮ উইকেটে জয় তুলে নিয়েছে ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে সবথেকে বড় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার, যিনি এই ফরম্যাটে নিজের কেরিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়েন। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয়ের পর এবার সমস্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর রাঁচির দিকে। ৯ অক্টোবর রাঁচির ঝাড়খণ্ড স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (JSCA) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সাক্ষী থাকতে চলেছে রাঁচির এই মাঠ। ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই মাঠেই শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঘরের মাঠে বদলা নেওয়ার পাশাপাশি জয় ছিনিয়ে নেওয়ার এটাই আদর্শ সুযোগ। তবে শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, রাঁচির এই স্টেডিয়াম ঘিরে এমন একটি অদ্ভুত পরিসংখ্যান রয়েছে, যা ভাঙতেও মরিয়া থাকবেন শ্রেয়াসরা।
রাঁচির ২২ গজে ২০০ রানের খরা কাটবে কি? জেএসসিএ স্টেডিয়ামে এখনও পর্যন্ত মোট চারটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে (যেখানে মোট ৮টি ইনিংস খেলা হয়েছে)। পরিসংখ্যান বলছে, এই দীর্ঘ সময়ে রাঁচির মাঠে একটি ইনিংসেও কেউ ২০০ রানের গণ্ডি স্পর্শ করতে পারেনি! ২০১৬ সালে এই মাঠে আয়োজিত প্রথম ম্যাচেই টিম ইন্ডিয়া সর্বোচ্চ ১৯৬ রান করেছিল, যা এখনও পর্যন্ত এখানকার রেকর্ড স্কোর। এছাড়া এই মাঠে ১৭৬, ১৫৫, ১৫৩ এবং ১২৭ রানের মতো স্কোরও নথিভুক্ত হয়েছে।
ভারতীয় দলের বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপ যেভাবে বিধ্বংসী ফর্মে রয়েছে, তাতে এই মাঠে প্রথমবার ২০০ রানের ঐতিহাসিক দেয়াল ভাঙা অসম্ভব কিছু নয়। তবে তার জন্য টস ভাগ্য এবং প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পাশাপাশি, এই ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের লাগাতার ব্যর্থতার পর তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীকে একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। সবমিলিয়ে, রাঁচির এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দল নতুন কোনো ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।