আইসল্যান্ডের মাটিতে ভারতের বড় হুংকার! আর্কটিক সার্কেল সম্মেলনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

আর্কটিক অঞ্চলে ভারতের সক্রিয় উপস্থিতি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল নয়াদিল্লি। আগামী ৮ থেকে ১০ অক্টোবর আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিকে আয়োজিত হতে চলা মর্যাদাপূর্ণ ‘আর্কটিক সার্কেল অ্যাসেম্বলি (এসিএ) ২০২৬’-এ ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারতের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবেন তিনি।
সম্মেলনের সূচি অনুযায়ী, কীর্তি বর্ধন সিং “মেল্টিং পোলস: পার্সপেক্টিভস ফ্রম ইন্ডিয়া অ্যান্ড সিঙ্গাপুর” শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি, ভারতের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত “আর্কটিক অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ: পার্সপেক্টিভস ফ্রম অবজারভার স্টেটস” শীর্ষক সেশনে উদ্বোধনী ভাষণ দেওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর।
আইসল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আর্কটিক এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমশ নিবিড় হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে মেরু গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মতো ক্ষেত্রে আর্কটিকভুক্ত দেশগুলির সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্ব আরও প্রসারিত করতে চাইছে ভারত। এই সফরকালে আইসল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েক বছরে ভারত ও আইসল্যান্ডের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ভারত-ইএফটিএ টিইপিএ চুক্তি, নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা এবং বিশেষ করে ভূতাপীয় শক্তি, মৎস্যচাষ ও পরিচ্ছন্ন শক্তির মতো ভবিষ্যৎমুখী ক্ষেত্রগুলিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন দিশা দেখাচ্ছে।
ভারতের আর্কটিক নীতির মূল স্তম্ভসমূহ:
বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও সহযোগিতা
জলবায়ু ও পরিবেশ সুরক্ষা
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অংশীদারিত্ব
পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধি
সুশাসন (Governance)
তরুণ গবেষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি
বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি এই বৈশ্বিক সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। এমন একটি আন্তর্জাতিক মহাযজ্ঞে ভারতের এই জোরালো অংশগ্রহণ মেরু নীতি ও জলবায়ু কূটনীতিতে দেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তোলে।