“পুজোয় ঠাকুর দেখতে আর চিন্তা নেই!” ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর প্রতিদিন ৫১টি স্পেশাল ট্রেন চালাবে শিয়ালদা ডিভিশন

বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে আরও আনন্দদায়ক ও নির্বিঘ্ন করে তুলতে বড় ঘোষণা করল পূর্ব রেলের শিয়ালদা ডিভিশন। পুজোয় শহর ও শহরতলির লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর যাতায়াত সহজ করতে এবং ভিড় সামাল দিতে একগুচ্ছ দুর্দান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রেলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, উৎসবের দিনগুলিতে যাত্রীদের নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা দিতে এবং নিরাপত্তায় কড়া নজরদারি রাখতে ২৪ ঘণ্টার একটি বিশেষ ‘ওয়ার-রুম’ চালু করা হচ্ছে।

আসন্ন পুজোয় রেকর্ড ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন মোট ৫১টি বিশেষ ইএমইউ (EMU) পরিষেবা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিয়ালদা ডিভিশন। উল্লেখ্য, গত বছর এই সংখ্যাটি ছিল ৩১টি। এর পাশাপাশি গভীর রাতে প্যান্ডেল হপিং শেষে বাড়ি ফেরা দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য মেন, নর্থ ও সাউথ সেকশনে মোট ৩৮টি রাত্রিকালীন বিশেষ ইএমইউ লোকাল ট্রেন চালানো হবে। এমনকি সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন ১৩টি বিশেষ ইএমইউ ট্রেন ছোটার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও ১০ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ৮০টি বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন ট্রিপের পরিকল্পনা রয়েছে, যা গত বছর ছিল ৫০টি।

যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে আরও জানানো হয়েছে যে, পুজোর মূল দিনগুলোতে দুপুর ২টো বা তার পর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া সমস্ত গ্যালপিং ও মেল ইএমইউ লোকাল ট্রেন প্রতিটি ফ্ল্যাগ ও হল্ট স্টেশনে থামবে। পাশাপাশি পুজোর কেনাকাটার বাড়তি চাপ সামলাতে ১০ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত শিয়ালদা-রানাঘাট-লালগোলা রুটে অতিরিক্ত ৪টি ইএমইউ স্পেশাল ট্রেন চালানো হবে।

শিয়ালদা স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে প্রফুল্ল দ্বার, উত্তর, প্রধান, মধ্য এবং দক্ষিণ গেট দিয়ে আলাদা প্রবেশ ও প্রস্থান পথ তৈরি করা হয়েছে। শিয়ালদা, বালিগঞ্জ ও দমদম স্টেশনে নতুন শৌচাগার নির্মাণ এবং রানাঘাট ও ব্যারাকপুর স্টেশনে নতুন টিকিট কাউন্টার খোলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তায় সিবিটিভি (CCTV) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানোর পাশাপাশি বড় স্টেশনগুলিতে স্ট্যান্ডবাই ট্রেন রেক, অতিরিক্ত লোকো পাইলট, হেল্প ডেস্ক এবং মেডিক্যাল বুথ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিয়ালদা ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, পুজোয় প্রতিটি মানুষের ভ্রমণ যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, তার জন্য রেলের প্রতিটি বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে।