বকেয়া ডিএ নিয়ে অনিশ্চয়তা চরমে! অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের ভাগ্য নিয়ে কি বড় সংকটে রাজ্য সরকার?

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হলেও, রাজ্যের প্রায় আট লক্ষ গ্রান্ট-ইন-এইড বা অনুদানপ্রাপ্ত কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং বোর্ড-কর্পোরেশনের কর্মচারীদের বকেয়া মেটানো নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর এবং ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ একসঙ্গে মেটানোর কথা ঘোষণা করলেও, সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় সরাসরি সরকারি কর্মচারী এবং নির্দিষ্ট পেনশনভোগীদের কথাই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা বকেয়া পাওয়ার তালিকার বাইরে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কর্মচারী সংগঠনগুলির তীব্র আপত্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টে চলা ডিএ মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকার স্বয়ং সরাসরি সরকারি কর্মচারী ছাড়াও গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মী এবং পেনশনভোগীদের বকেয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব পেশ করেছিল। আদালতে দেওয়া সেই তথ্যানুযায়ী, ২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া মেটাতে সরাসরি সরকারি কর্মীদের জন্য ১১,৭৯০ কোটি টাকা, গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের জন্য ১৮,৩৬৯ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য ১১,৬১১ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের জোরালো দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্টতই ‘Employee of the State’ বা রাজ্যের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র রায়ে আলাদা করে নাম নেই অজুহাতে অনুদানপ্রাপ্ত কর্মীদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্যায়।

নবান্নের ঘোষিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, Group-A, B এবং C কর্মীদের পাওনা অর্থ তাঁদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড বা GPF-এ জমা করা হবে এবং ২০২৮ সালের ৩১ মার্চের আগে তা তোলা যাবে না। তবে অবসর, মৃত্যু কিংবা পদত্যাগের মতো বিশেষ জরুরি পরিস্থিতিতে নিয়মের ব্যতিক্রম থাকবে এবং অবসরের তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত জিপএফ নিষ্পত্তি করা হবে। অন্যদিকে, Group-D কর্মীদের বকেয়া সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশিকায় কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় আইনি জটিলতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।