পশ্চিমাদের চোখে চোখ রেখে শাসন! ৭৩ বছরে পা দিয়েও কেন একচুল নড়েননি পুতিন?

আজ ৭ই অক্টোবর, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের ৭৩তম জন্মদিন। দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এই রাষ্ট্রপ্রধান সহজে চাপের কাছে কখনোই নতি স্বীকার করেন না। যুদ্ধ হোক বা পশ্চিমা দেশগুলোর বিরোধিতা, তাঁকে সর্বদা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে দেখা যায়। পুতিনের এই অনমনীয় ব্যক্তিত্বের পেছনে রয়েছে তাঁর শৈশব, সোভিয়েত যুগের অভিজ্ঞতা এবং ক্ষমতার সুদীর্ঘ রাজনীতি।

১৯৫২ সালে লেনিনগ্রাদে (বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ) জন্মগ্রহণকারী পুতিনের শৈশব কেটেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবরোধে ক্ষতবিক্ষত এক সাধারণ যৌথ অ্যাপার্টমেন্টে। জীবনের কঠিন বাস্তবতাই তাঁকে শৃঙ্খলিত ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলে। কিশোর বয়সে জুডো শেখার মাধ্যমে তিনি শক্তি, ধৈর্য এবং প্রতিপক্ষের গতিবিধি বোঝার ক্ষমতা অর্জন করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। এরপর সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি-তে চাকরি এবং পূর্ব জার্মানির ড্রেসডেনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর ক্ষমতাকেন্দ্রিক মনস্তত্ত্বকে আরও গভীর করে তোলে।

পুতিনের রাজনৈতিক যাত্রার সবচেয়ে বড় মোড় ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন। সেই সময়কার বিশৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় ক্ষমতার দুর্বলতাকে তিনি রাশিয়ার ইতিহাসের এক বিরাট ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখেছেন। ১৯৯০-এর দশকের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর পুতিন নিজেকে এমন একজন কড়া শাসক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন যিনি দেশে স্থিতিশীলতা ও নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনতে পারেন। তাঁর সমর্থকেরা একে দেশের অখণ্ডতা রক্ষা হিসেবে দেখলেও, সমালোচকদের মতে এই কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা বিরোধিতার পথ সংকুচিত করেছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটো সম্প্রসারণ এবং ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সংঘাত চরমে পৌঁছায়। পুতিন বারবার প্রমাণ করেছেন যে বাহ্যিক চাপে রাশিয়া তার নীতি পরিবর্তন করবে না। তিনি আপসকে দুর্বলতা মনে করেন। যদিও এই দৃঢ়তা তাঁর সমর্থকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে, তবুও অনমনীয়তার ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে এবং মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। পুতিনের উত্তরাধিকার মূল্যায়ন করা হবে এই মানদণ্ডে যে তিনি রাশিয়াকে কতটা শক্তিশালী করেছেন এবং এর জন্য বিশ্বকে কী মূল্য দিতে হয়েছে।