‘এখনও সেই লোভে বেঁচে আছি…’ গণেশ মন্দিরে পুজো দিয়ে কী প্রার্থনা করলেন মোদী?

সরকারের প্রধান হিসেবে জনসেবায় টানা ২৫ বছরের রাজকীয় সফর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে যে প্রশাসনিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, তা আজ ভারত পেরিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেছে। ২৫ বছরের এই ঐতিহাসিক পূর্তিতে বুধবার জীবনের নানা অজানা পাতা উল্টে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী। ভাগ করে নিলেন নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতি এবং ফাঁস করলেন শৈশবের এক গোপন কথা।

স্কুলে কেমন ছাত্র ছিলেন মোদী?

দীর্ঘ আড়াই দশকের রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করেছেন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শৈশবের স্মৃতিকাতরতায় ডুব দেন ৭৮ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী। জন্মভূমি গুজরাটের মেহসানার ছোট্ট শহর ভডনগরের দিনগুলির কথা স্মরণ করে মোদী জানান, তিনি ক্লাসে ঠিক কেমন ছাত্র ছিলেন।

স্মৃতি হাতড়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার মনে আছে, আমি যখন ভডনগরের স্কুলে পড়তাম, আমাদের মাস্টারমশাই নানা বিষয়ে পড়াতেন। ক্লাসে সবচেয়ে আগে পৌঁছনো ছাত্র হিসেবে সর্বদা আমার নাম প্রথমে থাকত। শেখার ওই লোভ আমার জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। আমি আজও নিজেকে একজন বিদ্যার্থীই মনে করি। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করি।”

গণেশ মন্দিরে পুজো ও ঈশ্বরের কাছে বিশেষ প্রার্থনা

বিশেষ এই মাইলফলকে দাঁড়িয়ে বুধবার সকালটা দিল্লির বিখ্যাত শ্রীবিনায়ক মন্দিরে পুজো দিয়েই শুরু করেন নরেন্দ্র মোদী। ভগবান গণেশের চরণে মাথা ঠুকে নিজের জন্য ঠিক কী প্রার্থনা করেছেন, তাও খোলাখুলি প্রকাশ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ মন্দিরে আমি আমার জন্য একটি বিশেষ প্রার্থনা করেছি। ঈশ্বরের কাছে হাতজোড় করে চেয়েছি, আমার মনের ভেতরের এই শেখার ইচ্ছেশক্তি যেন কোনোদিন কমে না যায়।”

ভডনগর থেকে রাজপথ: ২৫ বছরের বর্ণময় সফর

ভডনগরের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া নরেন্দ্র মোদী শৈশব পেরিয়ে যোগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘে (RSS)। সেখান থেকে বিজেপির একদম তৃণমূল স্তরের কর্মী থেকে শুরু করে নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশলবিদ হয়ে ওঠা। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর টানা ১২ বছরের বেশি সময় সামলেছেন রাজ্যের দায়িত্ব। এরপর ২০১৪ সালে কেন্দ্রভিত্তিক রাজনীতিতে এসে দেশকে এনে দিয়েছেন টানা তিনবারের সরকার।

রাজনৈতিক জীবনের এই সিলভার জুবিলিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব সমর্পণ করেছেন দেশের সাধারণ মানুষের ওপর। পাশাপাশি নিজের সমালোচকদেরও বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে মোদী বলেন, “আজ আমি যা, যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছি এবং যে ভূমিকাতেই কাজ করছি না কেন, তার সবচেয়ে বড় অবদান জনতা জনার্দনের। আর যাঁরা আমার বিরোধিতা করেছেন, তাঁরা আমাকে গণতন্ত্রের আসল শক্তি শিখিয়েছেন। আমার সমালোচকরাই আমাকে প্রতিনিয়ত নিজের ভেতরের দিকে তাকাতে ও আরও ভালো হতে শিখিয়েছেন।”