‘উন্নয়নের সঙ্গে রাজনীতি মিশে শিলিগুড়িকে বঞ্চিত করা হয়েছে!’ বাগাযতীন পার্কের মঞ্চ থেকে তোপ দাগলেন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ

শিলিগুড়ি শহরকে আরও তিলোত্তমা, পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করে গড়ে তুলতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক যুক্ত হলো। বুধবার শহরের বাঘাযতীন পার্কে আয়োজিত বিশেষ ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে শহরের সাফাই ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করে তুলতে ১২টি নতুন আধুনিক জঞ্জাল সাফাই গাড়ির শুভ উদ্বোধন করা হয়।

এদিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের বিশিষ্ট পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত কড়া ও বাস্তবসম্মত সুরে বলেন, “শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল পৌর প্রশাসনের একাই দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। আধুনিক পরিকাঠামো এবং পর্যাপ্ত গাড়ি পরিষেবায় যুক্ত হলে সাফাই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। শিলিগুড়িকে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। শুধু নতুন গাড়ি রাস্তায় নামালেই চলবে না, সেগুলির সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও কড়া নজর রাখতে হবে, যাতে শহরের প্রতিটি কোণে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়।”

অন্যদিকে, বিগত দিনের প্রশাসনিক বঞ্চনা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ খুলে তিনি বলেন, “একটি আদর্শ শহরের অগ্রগতির জন্য রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল এবং উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা—এই চারটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিগত দিনে নানা কারণে, বিশেষ করে উন্নয়নের সঙ্গে রাজনীতির অনভিপ্রেত মিশ্রণের দরুণ শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ মৌলিক নাগরিক পরিষেবা থেকে অনেকটাই বঞ্চিত হয়েছেন।”

নতুন এই পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকারের পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের বিশেষ আর্থিক বরাদ্দের প্রায় ৪ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই ১২টি অত্যাধুনিক গাড়ি শিলিগুড়ি মিউনিসিপাল কর্পোরেশনকে প্রদান করা হয়েছে। গাড়িগুলির অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত সংযোজন হলো আধুনিক ‘জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম’। দেশের বড় বড় মেগাসিটিগুলির মতো শিলিগুড়িতেও এই প্রযুক্তি চালু হওয়ায় একদিকে যেমন গাড়িগুলির রিয়েল-টাইম অবস্থান সরাসরি ট্র্যাক করা যাবে, অন্যদিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করে কড়া নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। উদ্বোধনের পরপরই নতুন গাড়িগুলিকে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতার কাজে নামানোর প্রস্তুতি শুরু হয়। প্রশাসনের এই যৌথ পদক্ষেপ ও প্রযুক্তির ব্যবহারে শিলিগুড়ির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো বলে মনে করছেন শহরের সর্বস্তরের মানুষ।