আমেরিকাকে স্তব্ধ করে দেওয়া সেই কুখ্যাত শুটআউটে বড় মোড়! ৬৫ বছর পর সেনাকর্তার মৃত্যুদণ্ডে সায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের

আমেরিকা তথা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই ভয়াবহ শুটআউটের ঘটনায় এবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঐতিহাসিক অনুমতি মিলল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কুখ্যাত প্রাক্তন আর্মি মেজর নিদাল মালিক হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে দীর্ঘ ৬৫ বছর পর মার্কিন সেনার কোনো উচ্চপদস্থ অফিসারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে চলেছে, যা পেন্টাগনের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।

মার্কিন সেনার তৎকালীন সাইকিয়াট্রিস্ট নিদাল মালিক ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনা ঘাঁটিতে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ১৩ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। ওই ভয়াবহ হামলায় প্রায় ৩০ জন সেনা ও সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হন। পরবর্তীকালে কঠোর কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচার সম্পন্ন হয় এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচার চলাকালীন নিদাল মালিক নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছিল যে, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা পাঠানোর বদলা নিতে এবং মুসলিমদের ওপর কথিত আগ্রাসন আটকাতেই সে এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। সে নিজেকে কোনো অনুতপ্ত অপরাধী নয়, বরং দলবদল করা এক বিদ্রোহী সেনা বলেই দাবি করেছিল।

পেন্টাগনের দপ্তরের মুখপাত্র শন পার্নেল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত নিদাল মালিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দিনক্ষণ ও সঠিক সময় এবার চূড়ান্ত করবেন স্বয়ং আর্মি সেক্রেটারি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে এই মৃত্যুদণ্ডে সায় দিলেও নিদাল মালিকের কাছে ফেডারেল আদালতে আপিল করার আইনি সুযোগ অবশিষ্ট রয়েছে। সে যদি উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটে, তবে এই বহুল চর্চিত সাজা কার্যকর হতে আরও বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, মার্কিন সেনা বাহিনী এর আগে শেষবার কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল সুদূর ১৯৬১ সালে। ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি মার্কিন সেনায় অত্যন্ত বিরল এবং দীর্ঘ ঐতিহ্যের ব্যতিক্রমী নজির। ১৯৬১ সালে মার্কিন আর্মি প্রাইভেট জন এ. বেনেটকে একটি ভয়াবহ অপরাধের জন্য শেষবার এই কড়া শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২০০৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ রোনাল্ড গ্রে নামের অপর এক সেনাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দিলেও পরবর্তীকালে আদালতের হস্তক্ষেপে তা স্থগিত হয়ে যায়। বর্তমানে অভিযুক্ত নিদাল মালিক এবং রোনাল্ড গ্রে উভয়েই কানসাসের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত সামরিক জেলেই বন্দি রয়েছে।