মোদির ২৫ বছর পূর্তি নিয়ে যা বললেন মিঠুন! উত্তরবঙ্গে পা রাখতেই কোন বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন মহাগুরু?

চার দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে বুধবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পা রেখেই একগুচ্ছ রাজনৈতিক ও সমসাময়িক ইস্যুতে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও স্পষ্ট ভঙ্গিতে মুখ খুললেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ মিঠুন চক্রবর্তী। ৭ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত এই সফরে তিনি সড়কপথে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি জেলার বনবিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ পরিদর্শন করবেন। বিমানবন্দর চত্বরে পা রেখেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশাসক হিসেবে সফল ২৫ বছর পূর্তি প্রসঙ্গে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে তিনি বলেন, “কারও জীবনে এত দীর্ঘ ও বর্ণময় প্রশাসনিক যাত্রা ঘটেছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সাফল্য।”
পাশাপাশি, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাম্প্রতিক বিতর্কিত টুইট এবং তার প্রেক্ষিতে প্রশাসনের আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মিঠুন জানান, নির্দিষ্ট পোস্টটি তিনি নিজে না দেখলেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট সাংসদ মারাত্মক আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে চলেছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নাম পরিবর্তন করে সব ভাষাতেই ‘পশ্চিমবঙ্গাল’ করার চলমান জল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবসিদ্ধ রসাত্মক ও গুরুগম্ভীর ভঙ্গিতে তিনি বলেন, রাজ্যের নাম যাই রাখা হোক না কেন, এটি আমাদের নিজস্ব মাতৃভূমি এবং এর গৌরব ও গুরুত্ব কোনোদিনও ম্লান হবে না।
বাগডোগরা থেকে বেরিয়ে তিনি সড়কপথে জলপাইগুড়ির বিখ্যাত চাপড়ামারি ফরেস্ট রেস্ট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তাঁর এই ঠাসা চার দিনের সফরসূচিতে পরিবেশ, বন ও পর্যটন বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যার তথা নাগরাকাটার বিধায়ক পুনা ভেংরা, আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা এবং রাজ্য সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁওয়ের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, চাপড়ামারি ছাড়াও আলিপুরদুয়ারের মালাঙ্গি ফরেস্ট গেস্ট হাউস এবং লাটাগুড়ি জঙ্গল ক্যাম্প ও ফরেস্ট গেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করবেন তিনি। সফরের ফাঁকে তাঁর ভুটানঘাট, কালচিনি ব্লকের পরো বস্তি ও সিশামারা এলাকা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। এমনকি ঐতিহাসিক জলদাপাড়া ও গোরুমারা জাতীয় উদ্যানে রোমাঞ্চকর জঙ্গল সাফারিতেও অংশ নেবেন মহাগুরু। সব কর্মসূচি শেষ করে আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার সকালে লাটাগুড়ি থেকে বাগডোগরা হয়ে বিমানযোগে তাঁর পুনরায় কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।