‘উই উইল ডু ইট’! ক্ষমতার ২৫ বছরে বিশ্বজয়ের নতুন মন্ত্র মোদীর, বিরাট ঘোষণায় তোলপাড় দেশ

নয়াদিল্লিতে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর জমকালো মঞ্চ থেকে দেশের বিশ্বজয়ের নতুন স্লোগান তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রশাসক হিসেবে টানা ২৫ বছরের বর্ণময় কার্যকালের মাইলফলক উদযাপনের এই বিশেষ দিনে দেশবাসীর উদ্দেশে নতুন উদ্যমে এক অদম্য স্লোগান দেন তিনি— “উই উইল ডু ইট!”

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার আড়াই দশক পূর্তিকে স্মরণীয় করে তুলতে গোটা দেশকে এক নতুন প্রতিজ্ঞায় আবদ্ধ করার বার্তা দেন তিনি। বিপুল সংখ্যক সমর্থক ও বিজেপি কর্মীদের করতালির মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার এই দীর্ঘ প্রশাসনিক যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে দেশের সব দলীয় কর্মী ও দেশবাসীর সমর্থন ছিল অসামান্য। আজকের এই বিশেষ দিনটি কেবল অতীতের স্মৃতি রোমন্থনের দিন নয়। এটি আমাদের পুরনো অঙ্গীকারকে নতুন শক্তিতে ভরিয়ে তোলার দিন। এই দিনটি জোর গলায় সেই প্রতিজ্ঞাকে পুনরায় নিশ্চিত করার দিন।”

এদিনের ভাষণ থেকে মূলত তিনটি বড় লক্ষ্য নির্দিষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথমত, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারতের আত্মপ্রকাশ। ২০১৪ সালে মোদী যখন প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন ভারতীয় অর্থনীতি ছিল বিশ্বের দশম স্থানে। বর্তমানে ভারত ষষ্ঠ থেকে তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার জন্য দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। দ্বিতীয়ত, মহাকাশে ভারতের নিজস্ব অভিযান। সম্পূর্ণ স্বদেশি প্রযুক্তিতে মানুষকে মহাকাশে পাঠানো এবং অন্তরীক্ষে দেশের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলা। তৃতীয়ত, অলিম্পিক গেমসের আয়োজন ও দেশকে বিশ্বমানের ম্যানুফ্যাকচারিং হাব বা উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসক হিসেবে মোদীর ২৫ বছর পূর্তির এই মাহেন্দ্রক্ষণ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিজেপি সরকার বিগত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি। সম্প্রতি শিক্ষা আন্দোলন ও যুব বিক্ষোভের জেরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এর ওপর, নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘স্পেশ্যাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (SIR) এবং ‘ভোট চুরি’-র অভিযোগে বিরোধীদের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আন্দোলন রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই চরম রাজনৈতিক চাপের আবহে মোদীর এই আত্মপ্রত্যয়ী ও আক্রমণাত্মক ভাষণ বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মনে বিপুল উদ্দীপনা জুগিয়েছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।