মোদির রাজত্বের ২৫ বছর! উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করে হঠাৎ কেন গুজরাট ছুটলেন শুভেন্দু অধিকারী?

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভারতীয় রাজনীতির যে ঐতিহাসিক অধ্যায় শুরু হয়েছিল, তা আজ ২৫ বছর পূর্ণ করল। নরেন্দ্র দামোদর মোদির বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের আড়াই দশক পূর্তিকে কেন্দ্র করে গোটা দেশজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। বিজেপির তরফে আয়োজিত এই রজতজয়ন্তী উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁর রাজনৈতিক সূতিকাগার গুজরাটকেই। সেখানে আজ উদযাপিত হতে চলেছে মেগা ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সমাপ্তি অনুষ্ঠান। আর এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই নিজের পূর্বনির্ধারিত উত্তরবঙ্গ সফর হঠাৎ স্থগিত করে বুধবার দুপুরে গুজরাটের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মোদির এই ২৫ বছরের যাত্রাপথ কেবল একজন নেতার উত্থানের গল্প নয়, এটি ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্র বদলে যাওয়ার এক রূপরেখা। ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর টানা ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের সঙ্গে রাজ্য শাসন করেছিলেন মোদি। এরপর ২০১৪ সালের ঐতিহাসিক লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের প্রধান মুখ হয়ে দেশবাসীকে চমকে দেন তিনি। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লির মসনদে বসার পর থেকে মোদির বিজয়রথ আর থামেনি। ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনেও নিরঙ্কুশ জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি এখন টানা তৃতীয় দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ পরিচালনা করছেন।
নরেন্দ্র দামোদর মোদির রাজনৈতিক জীবনের এই ঐতিহাসিক ২৫ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য দেশজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-সহ নানা কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রক্তদান শিবির, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, জনসচেতনতামূলক মিছিল, বাইক ও সাইকেল র্যালির পাশাপাশি মোদির জীবনের নানা দিক তুলে ধরে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত আয়োজনের মধ্যে গুজরাটের সমাপনী অনুষ্ঠানটিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। যে মাটি থেকে প্রশাসনিক নেতৃত্বে তাঁর পথ চলা শুরু হয়েছিল, সেখানেই এই বিশেষ যাত্রার পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে মোদির যুগকে স্মরণ করা হচ্ছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে।
গুজরাটের এই জমকালো আয়োজনে বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের শীর্ষনেতাদের পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদেরও। সেই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশারদরা। এদিকে, ইংরেজবাজার পুরসভা সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সম্প্রতি দলের সাফল্য এবং এই জাতীয় কেন্দ্রীয় কর্মসূচিগুলোতে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাংলায় গেরুয়া শিবিরের মনোবলকে যে অনেকটাই চাঙ্গা করেছে, তা বলাই বাহুল্য। সবমিলিয়ে, মোদির রাজনৈতিক জীবনের রজতজয়ন্তীর এই মহোৎসব জাতীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।