‘পশ্চিম বিশ্বকে গ্রাস করছে ইসলাম!’ ফ্রান্সের অশান্তি নিয়ে ট্রাম্পের ছকভাঙা মন্তব্যে শোরগোল

ফ্রান্স জুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবক্ষয় ও সরকারি অর্থ বরাদ্দের দাবিতে স্কুল পড়ুয়া, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের ঐতিহাসিক বিক্ষোভ ঘিরে এখন তোলপাড় পুরো ইউরোপ। ঠিক এমন এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ঘি ঢাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি আন্দোলনের আসল কারণ ‘স্কুল সংকট’ নয়, বরং ‘নিয়ন্ত্রণহীন গণঅভিবাসন’—এই দাবি তুলে ফরাসি রাজনীতি থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট
ফ্রান্সজুড়ে আড়াই লক্ষেরও বেশি মানুষ রাজপথে নামার পরপরই মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প লেখেন, “ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া গণঅভিবাসন ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা স্কুল নিয়ে নয়, আসলে এর নেপথ্যে রয়েছে মুসলিমরা। ইসলাম এক সময়ের মহান এই দেশকে গ্রাস করে নিতে চাইছে।”
ইউরোপীয় দেশগুলির নমনীয় অভিবাসন নীতি যে পশ্চিমা সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, ট্রাম্প এবং তাঁর ‘MAGA’ সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরেই সেই অভিযোগ তুলে আসছেন। মার্কিন মিড-টার্ম নির্বাচনের আগে অভিবাসন ও ‘কালচার-ওয়ার’ ইস্যুকে সামনে এনে ডানপন্থী ভোটারদের মেরুকরণের লক্ষ্যেই ট্রাম্পের এই বার্তা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।
ফ্রান্সে হঠাৎ কেন এই দাবানল?
গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্যারিসের দরিদ্র শহরতলি এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দাবানলের মতো পুরো ফ্রান্সে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক সংকট, পর্যাপ্ত বাজেট না থাকা, স্কুল ভবনের ছাদ চুইয়ে জল পড়া এবং এমনকি শ্রেণি কক্ষে ইঁদুরের উপদ্রবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
বন্ধ হাজার হাজার স্কুল: ছাত্র সংগঠন ‘ইউনিয়ন সিন্ডিক্যাল লিসেন’-এর দাবি, ফ্রান্সের প্রায় ২,০০০ হাইস্কুলে তালা ঝুলে গিয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও ক্লাসবর্জন করেছে। যদিও শিক্ষা মন্ত্রক ৮৯১টি স্কুলে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ স্তব্ধতার কথা স্বীকার করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বহু জায়গায় অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
রণক্ষেত্র একাধিক শহর: মার্সেই, নঁতে, স্ট্রাসবুর্গ এবং লিয়ঁ-র রাস্তায় নেমে আন্দোলনকারীরা ‘রাষ্ট্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে মেরে ফেলছে’ লেখা পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। কয়েক জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হলে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ।
পুলিশি বর্বরতার অভিযোগ: নাবালক পড়ুয়াদের ওপর দাঙ্গা দমন পুলিশ অনাবশ্যক বলপ্রয়োগ করছে বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি। পাল্টা ফরাসি সরকারের দাবি, মূল দাবিকে আড়াল করে হিংসাত্মক বহিরাগত গোষ্ঠী এই আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার সমস্যা সমাধানের বার্তা দিলেও অসন্তোষের আগুন নেভেনি। তার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ধর্মীয় মেরুকরণ ও অভিবাসন কেন্দ্রিক তোপ ম্যাক্রোঁ সরকারের ওপর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।