‘ভোট দিয়েছেন ৯০ শতাংশ মুসলিম মহিলা!’ বিস্ফোরক দাবিতে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিলেন শুভেন্দু!

রাজ্যের দুই হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে দলের বিপুল এবং ঐতিহাসিক জয় নিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী ও হুংকার ছাড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, এই দুই কেন্দ্রে বিরোধী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস বা বামেদের কার্যত কোনো অস্তিত্বই নেই।
রেজিনগরের ভোট পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ভোট দিতে না পারায় গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় সেখানে প্রায় ১৩ শতাংশ ভোট কম পড়েছে এবং মোট ৭৯ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটদান হয়েছে। তবে সংখ্যালঘু মহিলা ও যুব সম্প্রদায়ের ভোট যে একচেটিয়াভাবে পদ্মশিবিরেই গিয়েছে, তা গাণিতিক পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝান তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রাম তো ২০২১ সাল থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছে। রেজিনগরে তৃণমূল বা বামেদের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। সিপিএম পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানে এমনকী নোটার নীচেও চলে যেতে পারে।”
সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানার নেপথ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন জনমুখী উন্নয়নমূলক প্রকল্প যে অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে, তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, প্রবীণ সংখ্যালঘুরা হয়তো অন্য কাউকে ভোট দিয়েছেন, কিন্তু মহিলারা দু’হাত তুলে বিজেপিকেই সমর্থন করেছেন। বিরোধীদের যাবতীয় অপপ্রচার উড়িয়ে তিনি জানান, অন্নপূর্ণা বা আবাস যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে সরকার কোনো ধরনের ধর্মীয় ভেদাভেদ করেনি। শুভেন্দুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ কোটি ৫৮ লক্ষ অন্নপূর্ণা প্রাপকদের মধ্যে ২৪ লক্ষ মুসলিম মহিলা রয়েছেন এবং তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, তাঁদের ৯০ শতাংশই বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। পাশাপাশি আবাস যোজনার ১৭ হাজার বাড়ির তালিকাতেও ১০ হাজারের বেশি সংখ্যালঘু পরিবার স্থান পেয়েছে। এই উন্নয়নের নিরিখেই রেজিনগরে দলীয় প্রার্থী ১ লক্ষ ২০ হাজারের বেশি ভোটে এবং নন্দীগ্রামে গতবারের তুলনায় ৫-৬ গুণ বেশি ব্যবধানে জিতবে বলে তাঁর জোরালো বিশ্বাস।
অন্যদিকে, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের রিগিংয়ের অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে তাঁকে চরম কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। সেলিমকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “উনি ২০১৯-এ রায়গঞ্জে হেরেছেন, ২০২১-এ চণ্ডীতলায় হেরেছেন, ২০২৪-এ মুর্শিদাবাদে হেরেছেন। যেখানে মুসলমান ভোট বেশি আছে, বেছে বেছে সেখানেই দাঁড়াতে হয়।” সেলিমের উদ্দেশে তাঁর খোলা চ্যালেঞ্জ, “উনাকে আমি বলব কলকাতা কর্পোরেশনের নির্বাচনে কাউন্সিলে লড়তে। যদি জামানত রাখতে পারে তবে বুঝব উনি একজন বিরাট মাপের নেতা!”
পাশাপাশি, আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, তৃণমূলের আইটি সেলের বিরুদ্ধে ভুয়ো অভিযোগের জেরে নির্দিষ্টভাবে মানহানি ও অপরাধমূলক জোড়া মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসন্ন পুরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে মাধ্যমিক পরীক্ষার আগেই রাজ্যের সব পুরসভায় নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং রাজ্য সরকার কেবল পরিকাঠামোগত সহায়তা প্রদান করে থাকে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন।