বাড়ি কেনার স্বপ্ন কি অধরা থাকবে? দীর্ঘ আড়াই বছর পর রেপো রেট বাড়িয়ে বিরাট ধাক্কা দিল আরবিআই!

তিন বছরেরও বেশি দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে দেশের ঋণ নীতিতে বড়সড় বদল আনল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। বুধবার মুদ্রানীতির ঘোষণা করতে গিয়ে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর ফলে দেশের বর্তমান রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে সরাসরি ৫.৫০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াল। বাজারের পূর্বনির্ধারিত প্রত্যাশা ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার অনুমান মেনেই আরবিআইয়ের ছয় সদস্যের মুদ্রানীতি কমিটির সকলে একযোগে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে তাঁদের ভোটদান করেছেন।
উল্লেখ্য, রেপো রেট হলো সেই নির্দিষ্ট সুদের হার, যে হারে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে স্বল্পমেয়াদী ঋণ দেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। স্বাভাবিকভাবেই এই রেপো রেট বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির অর্থ সংগ্রহের খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়া। আর তার প্রত্যক্ষ প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়বে সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের পকেটে। এর ফলে গৃহঋণ (Home Loan), গাড়ি ঋণ (Car Loan) এবং ব্যক্তিগত ঋণের (Personal Loan) ক্ষেত্রে সুদের হার ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে, যার জেরে মধ্যবিত্তের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই (EMI) বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর এই প্রথম আরবিআই সুদের হার বাড়ানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিল। এর আগে ২০২৫ সালে পরপর চার দফায় মোট ১২৫ বেসিস পয়েন্ট রেপো রেট কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। কিন্তু বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে ফের কড়া মনোভাব নিতে হলো। এই প্রসঙ্গে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, দেশের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী থাকলেও মূল্যবৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে নতুন করে সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দুর্বলতা দেশের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছিল। মূল্যবৃদ্ধির সেই বাড়তি চাপ নিয়ন্ত্রণ করাই এখন শীর্ষ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। তবে সুদের হার বৃদ্ধির এই পদক্ষেপে যেমন ঋণগ্রহীতাদের চিন্তা বাড়ল, তেমনই অন্যদিকে দেশের ব্যাংকগুলিতে ফিক্সড ডিপোজিট বা বিভিন্ন ধরনের আমানতের ওপরে সুদের হার বাড়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সঞ্চয়কারীরা কিছুটা হলেও অতিরিক্ত লাভের মুখ দেখতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি কতটা দ্রুত এই বাড়তি ঋণের বোঝা সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপায়।