মোদীর ২৫ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাস! দিল্লির মন্দিরে পুজো দিয়ে কী চাইলেন প্রধানমন্ত্রী?

প্রশাসক হিসেবে বর্ণময় রাজনৈতিক জীবনের ২৫ বছর পূর্ণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বিশেষ ও ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বুধবার (৭ অক্টোবর) দিল্লির সরোজিনী নগরের ঐতিহাসিক শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো ও বিশেষ আরতি সম্পন্ন করেন তিনি। মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর নিজের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করে মোদী লেখেন, “আজ নয়াদিল্লির শ্রী বিনায়ক মন্দিরে পুজো ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করেছি। দেশের প্রতিটি প্রান্তে বসবাসকারী আমার পরিবারের সদস্যদের সুখ, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে ভগবান গণেশের কাছে প্রার্থনা করেছি। বিঘ্নহর্তার কৃপায় সকলের কল্যাণ হোক এবং দেশ যেন নিরন্তর উন্নতির পথে এগিয়ে যায়।”

২০০১ সালের ৭ অক্টোবর প্রথমবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে মোদীর এই নিরবচ্ছিন্ন পথচলা শুরু হয়েছিল। ২০১৪ সালের মে মাস পর্যন্ত একটাক টানা সাড়ে বারো বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সামলানোর পর, ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত নিরলসভাবে দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন রয়েছেন তিনি। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ বছরের এই দীর্ঘ ও সফল প্রশাসনিক নেতৃত্বের উচ্চ প্রশংসা করে মঙ্গলবার একটি বিশেষ অভিনন্দন প্রস্তাব পাশ করেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

আড়াই দশকের এই শাসনকালকে সেলিব্রেট করতে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘সেবা সংকল্প যাত্রা’ নামে একটি আকর্ষণীয় মোটরসাইকেল র‍্যালির আয়োজন করা হয়েছে, যা গুজরাটের ঐতিহাসিক ভাদনগর থেকে শুরু হয়ে বারাণসীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রশাসক মোদীর এই ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত জমকালো অনুষ্ঠানে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং উত্তর প্রদেশ বিজেপির সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি, বারাণসীর স্বনামধন্য রুদ্রাক্ষ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিশেষ ‘নমো বুক ফেস্ট: কাশী এডিশন’-এ যোগ দেবেন জাপানের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি আকি আবে। সেখানে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে তাঁর বিশেষ উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মাত্রা পেতে চলেছে। সবমিলিয়ে, মোদীর আড়াই দশকের প্রশাসনিক যাত্রার এই গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলককে ঘিরে সারা দেশে সাজো সাজো রব পড়ে গিয়েছে।