এক ফোনেই শেষ ১৭ বছরের জীবন! প্রয়াগরাজে পুরোহিতপুত্রের রহস্যমৃত্যু, মধ্যরাতের কল ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

গভীর রাতে মোবাইলে একটি অচেনা ফোন। সেই ফোন ধরে কথা বলতে বলতেই ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ১৭ বছরের শান্তনু। কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি। সকালে রাস্তার ধারে উদ্ধার হলো তার নৃশংসভাবে ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের ঝুনসি থানা এলাকায়।

মৃত শান্তনু দুবে স্থানীয় এক পুজো-পার্বণ ও তীর্থযাত্রী পুরোহিত পরিবারের সন্তান। কোহনা এলাকার বাসিন্দা এই ছাত্রের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।

কী ঘটেছিল সেই রাতে? পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে পরিবারের সঙ্গেই ছিল শান্তনু। হঠাৎই তার ফোনে একটি কল আসে। ফোনে কথা বলতে বলতেই সে বাড়ির বাইরে চলে যায়। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও সে ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

এরপর মঙ্গলবার সকালে ঝুনসি থানা এলাকার নির্জন রাস্তার পাশে শান্তনুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পরিবারের লোক ও পুলিশ।

রহস্যের জট খুলতে পুলিশের বিশেষ দল ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রয়াগরাজ পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। যে বা যারাই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিএসপি, গঙ্গানগর) সাগর জৈন জানান, “আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশের ৩টি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে।”

মোবাইল ফোনই কি খুলে দেবে মৃত্যুর রহস্য? তদন্তকারীরা শান্তনুর মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (CDR) খতিয়ে দেখছেন। সোমবার রাতে কার বা কাদের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল, কোন টাওয়ার লোকেশনে তার ফোন সক্রিয় ছিল এবং সে শেষ কয়েক দিনে কার কার সংস্পর্শে এসেছিল—তা খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

পুরোহিত পরিবারের এই নাবালক সন্তানকে কেন এবং কী কারণে ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হলো, তা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, খুব দ্রুতই এই রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের আসল সত্য সামনে আসবে এবং অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার হবে।