কৃষিতে প্রযুক্তির ছোঁয়া! কৃষিযন্ত্র কিনতে মিলবে ৮০% পর্যন্ত ভর্তুকি, আজ থেকেই শুরু আবেদন!

কৃষিকাজকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলতে বড়সড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। কৃষকদের আর্থিক বোঝা কমাতে এবং চাষের কাজ আরও সহজ করতে কৃষিযন্ত্র কেনা এবং কৃষিযন্ত্রাদি ভাড়া কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য সরকারি ভর্তুকির ঘোষণা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন কৃষকেরা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকল্পভেদে ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় ভর্তুকির সুযোগ রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে এই খাতে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে, যার ফলে উপকৃত হবেন রাজ্যের প্রায় ৬৭ হাজার ৫৮৫ জন কৃষক। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অনলাইনে আবেদন করার নথিপত্র সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি আধিকারিক বা কৃষিকেন্দ্রে আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে আবশ্যিকভাবে জমা দিতে হবে। এই প্রকল্পের জন্য ১৮ থেকে ৭০ বছর বয়সি কৃষকেরা আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি পিএম-কিষান সম্মান নিধিতে নথিভুক্ত কৃষক, সরকার স্বীকৃত কৃষকগোষ্ঠী, কৃষি সমবায় বা সংস্থাও নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে আবেদন করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্বজনপোষণ এড়াতে এবার আবেদনকারীদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে প্রকৃত উপভোক্তা নির্বাচন করা হবে। কৃষিমন্ত্রীর স্পষ্ট ঘোষণা, যাঁরা আগে এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, তাঁরা ফের এই সুযোগ পাবেন না। ভর্তুকির সমস্ত অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) মাধ্যমে পাঠানো হবে, যার জন্য কাউকে অতিরিক্ত কোনো টাকা দিতে হবে না। এছাড়া এফএসএসএম (FSSM) প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা, ওটিএ-এসএফআই-তে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং এফএমএইচ/এফএমবি প্রকল্পে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয়ের উপর সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ বা ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকির সংস্থান রয়েছে।
পূর্বের সরকারের জমানার অনিয়মের সমালোচনা করে কৃষিমন্ত্রী জানান, আগের মতো যাতে কোনো ভুয়া বা দুর্নীতির ঘটনা না ঘটে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, বাংলার জিআই (GI) স্বীকৃত ঐতিহ্যবাহী তুলাইপঞ্জি ও গোবিন্দভোগ চালকে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচিতি দিতে এবং বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি দিল্লির কৃষিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সব মিলিয়ে, কৃষি ও কৃষকদের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের এই মেগা পদক্ষেপে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।