অসুরের ৯ রূপ আর চোখের পলকে বিভ্রম! কলকাতার এই পুজোয় ঢুকলেই মাথা ঘুরে যাবে আপনার!

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে দুর্গাপুজো মানেই থিমের লড়াই আর চোখধাঁধানো সৃজনশীলতার এক অপূর্ব প্রদর্শনী। আর এই তালিকায় এ বছর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটি ‘শ্যাম স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও প্রদর্শনী’ এমন এক চমক নিয়ে হাজির হয়েছে, যা দেখে ভড়কে যেতে বাধ্য দর্শকরা। বিশ্বমঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করা কিংবদন্তি জাদুকর প্রীতুল চন্দ্র সরকার তথা সিনিয়র পি.সি. সরকারকে শ্রদ্ধা জানাতেই এ বছরের তাদের মূল থিম— ‘ম্যাজিক’। সুবল পালের সুনিপুণ হাতে রূপ পাওয়া এই মণ্ডপে পা রাখলেই সাধারণ চেনা জগৎ মুহূর্তে রূপকথার মায়াপুরীতে পাল্টে যাবে।
পুজো কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো নিজেই এক মস্ত বড় জাদু, যা চারদিনের জন্য চারপাশকে বদলে দেয়। এই থিমের মাধ্যমে ভারতীয় জাদুকলার গৌরবময় ঐতিহ্য, আলো-আঁধারের রোমাঞ্চকর খেলা এবং লোকশিল্পের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শকদের চোখে ধাঁধা লেগে যাবে। একদিকে যেমন নিখুঁত ইলিউশন বা চোখের পলকে বিভ্রমের খেলা থাকছে, তেমনই থাকবে কালা জাদু ও জাদুর বিভিন্ন কৌশলের অভিনব উপস্থাপন। এমনকি মহিষাসুরের ৯টি ভিন্ন রূপও এই মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, যা পুজোর আকর্ষণে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
এই থিমের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো জুনিয়র পি.সি. সরকারের সহযোগিতায় সিনিয়র পি.সি. সরকারের সেকালের জাদুকরি ও আসল বেশ কিছু সরঞ্জাম মণ্ডপে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসা। উদ্যোক্তারা ভারতীয় জাদুকলাকে মূলত তিনটি প্রধান ধারায় ভাগ করে ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রথমত, ভারতের প্রাচীনতম ধারা ‘স্ট্রিট ম্যাজিক’ বা মাদারি ও বাজিকরের খোলা আকাশের নিচের খেলা। দ্বিতীয়ত, আধুনিক ‘স্টেজ ইলিউশন’ বা থিয়েটারের আলো-আঁধারের জাদুকরী খেলা এবং তৃতীয়ত, মনস্তত্ত্ব ও সম্মোহন বিদ্যার ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা মানসিক জাদু। সঠিক আবহসংগীত, আলোর কারসাজি এবং জাদুকরী ছোঁয়ায় দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে এই মণ্ডপ দর্শকদের এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে যাবে।