হোটেল রুম থেকে জনপ্রিয় ওড়িয়া পরিচালকের দেহ উদ্ধার! শুটিং চলাকালীন আকস্মিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত বিনোদন জগৎ!

বিনোদন জগতে ফের এক মর্মান্তিক ও অপূরণীয় ধাক্কা। ওড়িয়া চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সফল ও পরিচিত পরিচালক এস.কে. মুরালিধরন প্রয়াত হয়েছেন। ভুবনেশ্বরের রাজধানী কলিঙ্গ বিহার এলাকার একটি হোটেলের ঘর থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে ওলিউড তথা গোটা চলচ্চিত্র জগতের সদস্য, কলাকুশলী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি নতুন চলচ্চিত্রের সঙ্গীত রেকর্ডিং ও চিত্রগ্রহণের কাজের জন্য গত চার দিন ধরে ঘাটকিয়া এলাকার ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন এস.কে. মুরালিধরন। তাঁর সঙ্গে থাকা সহযোগী আর. বাপি সাহুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিন এবং এমনকি সোমবার দুপুরের দিকেও তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন। সকলের সঙ্গে হাসিমুখে কথাবার্তাও বলেছিলেন। তবে দুপুর দেড়টার পর হঠাৎ করেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটতে শুরু করে। শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম ঝরতে থাকে এবং একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

অবস্থার আকস্মিক অবনতি দেখে তাঁর সহযোগীরা দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাঁকে স্থানীয় ক্যাপিটাল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে পরীক্ষা করার পর মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক অনুমান এবং সহযোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই ভরতপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হোটেল রুম ও চারপাশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে। মুরালিধরনের স্ত্রী ও কন্যাকে ফোনে এই মর্মান্তিক খবরটি জানানো হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ভরতপুর পুলিশের একটি বিশেষ দল হোটেলে এসে তদন্ত শুরু করেছে। পরিচালক আগে থেকেই কোনো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন কি না, কিংবা এই আকস্মিক মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সহকর্মীদের মতে, তিনি অত্যন্ত প্রাণোচ্ছ্বলভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন, ফলে এই হঠাৎ চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছেন না। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।