সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি! তদন্ত শেষ না হওয়ায় পদোন্নতি স্থগিত রাখলেন অভিযুক্ত এসিপি!

দেশজুড়ে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের জেরে যখন রাজনৈতিক পারদ চড়ছে, ঠিক সেই সময়ই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই বিক্ষোভ চলাকালীন সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া তিন মহিলা সাংবাদিককে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে এক মহিলা সাংবাদিক সরাসরি এসিপি বিবেক ভগতের বিরুদ্ধে অশালীনভাবে স্পর্শ করার এবং ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই হাই-প্রোফাইল ঘটনার পরেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক।
ঘটনার আকস্মিকতায় আলোড়ন সৃষ্টি হলেও ঠিক সেই সময়ই দিল্লি স্বরাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে এসিপি বিবেক ভগতকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (Additional DCP) পদে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। আর এই নিয়েই সর্বমহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ ওঠে যে, যৌন হেনস্তার মতো গুরুতর তদন্ত চলার পরেও কীভাবে একজন অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারকে পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে? তীব্র জনরোষ ও বিতর্কের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজে থেকেই দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন এসিপি বিবেক ভগত। তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানান যে, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেন তাঁকে অতিরিক্ত কোনো দায়িত্ব বা পদোন্নতি দেওয়া না হয়।
তাঁর এই লিখিত অনুরোধের পরই দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বের আদেশ সংশোধন করা হয়েছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বিবেক ভগতের পদোন্নতি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও তালিকায় থাকা বাকি অফিসারদের পদোন্নতি নির্ধারিত নিয়মেই বহাল থাকবে। যদিও দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছে যে, পদোন্নতির এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াটি যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার অনেক আগেই শুরু হয়েছিল।
এদিকে, সংসদ ভবন থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ তা গ্রহণ করতে গড়িমসি করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে থানার বাইরে তীব্র বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে অভিযোগটি নথিভুক্ত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাকি দুই মহিলা সাংবাদিকের অভিযোগগুলিও পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে গোটা এই জলঘোলা পরিস্থিতির পরেও এসিপি বিবেক ভগত কিংবা দিল্লি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়নি, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে প্রতিবাদের সুর আরও চড়ছে।