ভোট চুরি নিয়ে চুপ থাকব না!’ ইসিআই ঘেরাও মিছিলে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-জয়া, দিল্লি জুড়ে চরম উত্তেজনা!

ভোট চুরি ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর প্রতিবাদে সোমবার উত্তাল হয়ে উঠল রাজধানী দিল্লি। বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদরা আজ সংসদ ভবন থেকে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) নয়াদিল্লির সদর দপ্তর পর্যন্ত এক সুদীর্ঘ প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন। এই বিক্ষোভ চলাকালে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রবীণ সাংসদ জয়া বচ্চন একটি বিশেষ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর সেই প্ল্যাকার্ডে পরিষ্কার লেখা ছিল, “নির্বাচন কমিশন বৈষম্য করছে, পিডিএ-র ভোট কাটছে।”

এই প্রতিবাদ চলাকালীন এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে জয়া বচ্চন সাফ জানিয়ে দেন, “অভিযোগ করাটাই বিজেপির একমাত্র কাজ। ওরা এখন ক্ষমতায় আছে, তাই ওরা সেটাই করবে… আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।” এদিনের মিছিলে বিজেপির পক্ষ থেকে করা একটি মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “গণেশজি কখনই খারাপ কাজে সাহায্য করেন না। আমরা যখনই কোনো শুভ কাজ শুরু করি, প্রথমে গণেশজির কাছেই প্রার্থনা করি। আমরা আজ তাঁর নাম নিয়েই কাজ শুরু করেছি, তিনিই আমাদের সাহায্য করবেন এবং রক্ষা করবেন।”

এদিকে, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার পথে নীতি আয়োগ কার্যালয়ের কাছে এই প্রতিবাদ মিছিলে সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরা। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য সাংসদদের সঙ্গে তাঁরাও এই বিক্ষোভে সামিল হন। সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা ব্যারিকেড টপকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

প্রতিবাদ মিছিলের ঠিক আগেই বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ও সাংসদ সম্বিত পাত্র কড়া ভাষায় আক্রমণ শেনিয়ে বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী, সুপ্রিম কোর্ট, এইচএএল, হিন্দু সমাজ এবং ইভিএম—সময়মতো সবকিছুকেই আক্রমণ করা হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ও মাস ধরে নির্বাচন কমিশনকেও নিয়মিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, দেশে শুধুমাত্র একটি নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্যই কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগীরা বারবার নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে চলেছে।”